পটুয়াখালীতে  বিএনপির কমিটি নিয়ে অসন্তোষ 

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২২
????????????????????????
406 Views
পটুয়াখালীতে  বিএনপির কমিটি নিয়ে অসন্তোষ 
এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী:
টুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটি নিয়ে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি শহীদুল আলম তালুকদারকে আহবায়ক কমিটিতে সম্মানজনক পদ না দেয়ায় তার অনুসারি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,  গত বছরের ২৩ নভেম্বর শাহজাদা মিয়াকে আহবায়ক ও অলিয়ার রহমানকে সদস্য সচিব উপজেলা বিএনপি এবং হুমায়ন কবিরকে আহবায়ক ও মিজানুর রহমান খোকনকে সদস্য সচিব করে পৌর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে তুমুল জনপ্রীয়তা নিয়ে ভোটের লড়াই করা সাবেক এমপি শহীদুল আলম তালুকদারকে পৌর বিএনপির সদস্য হিসেবে রাখা হয় । অথচ পৌর বিএনপির আহবায়ক করা হয় বাউফল পৌরসভার কাউন্সিলর হুমায়ন কবিরকে। বিষয়টি নিয়ে সাবেক এমপি শহীদুল আলম তালুকদার দলীয় মহাসচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করার পর গত বছরের ১ ডিসেম্বর আহবায়ক কমিটি স্থগিত ঘোষনা করা হয়। সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত না দিয়েই প্রায় ৩ মাস পর গত ১৩ ফেব্রুয়ারী স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক শাহীন রেজ বল, উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক শাহজাদা মিয়া ১৫ আগষ্ট গরু জবাই করে শোক দিবস পালন করেছেন। তিনি শাররীকভাবে অসুস্থ। ২০০৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে এবং ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে তিনি কাজ করেছেন। তার ভাতিজা পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল ও ভাগ্নে ইব্রাহিম ফারুক পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি। এছাড়াও আহবায়ক কমিটির অনেক সদস্যই স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকেন।
শাহীন রেজা আরও বলেন, শহীদুল আলম তালুকদারের নেতৃত্ব ছাড়া বাউফল উপজেলা বিএনপি কল্পনা করা যায় না। তাকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে না রেখে পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য রাখা হয়েছে। এতে বোঝা যায় দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র বাউফল উপজেলা বিএনপিকে শক্তিশালী করতে চায় না। তিনি বলেন, আহবায়ক কমিটিতে পৌরসভার একজন কাউন্সিলরের অধীনে সাবেক এমপি। কতটা হাস্যকর বিষয়। সাবেক এমপি শহীদুল আলম তালুকদারকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক না করা হলে দলকে গতিশীল করা মোটেই সম্ভব নয়। যারা দলকে গতিশীল করতে চায় না তারাই শহীদুল আলমকে পেছনে টেনে রাখতে চান।
বিষয়টি নিয়ে বাউফল পৌর বিএনপির আহবায়ক ও বাউফল পৌরসভার কাউন্সিলর হুমায়ন কবির বলেন, সাবেক এমপি শহীদুল আলম তালুকদার জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিপক্ষে কাজ করেছেন। বিভিন্ন সময় দলের সঙ্গে বেঈমানী করা এই নেতার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবহিত আছেন। শহীদুল আলমের হাতে দল নিরাপদ না সেটা বুঝেই তাকে পদপদবী দেয়া হয়েছে।
আহবায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম সৈয়দ আহমেদ মিয়ার ছেলে সামুয়েল আহমেদ লেনিন বলেন, আহবায়ক কমিটিতে কে কি পদ পেল সেটা মুখ্য বিষয় নয়। এই মুহুর্তে বিষয়টি নিয়ে মান অভিমান বা সংক্ষুব্দ হওয়ার কোন কারন নেই।  আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সকল ইউনিয়ন কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে সকল পর্যায়ের ত্যাগী ও যোগ্য নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। দলকে গতিশীল করতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সু চিকিৎসা ও তার মুক্তির দাবীতে প্রত্যেক সদস্যকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। দলের স্বার্থে কাজ করার চলমান প্রক্রিয়ায় যোগ্য নেতৃত্ব বেড়িয়ে আসবে বলে মনে করি।