শেরপুরের নকলায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২০
348 Views

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

‘বৈশ্বিক মহামারীর বার্তা, প্রবীণদের সেবায় নতুন মাত্রা’ স্লোগানকে সামনে রেখে এবং ‘লিভিং নো ওয়ান বাহাইন্ড, প্রমোটিং সোসাইটি ফর অল’– অর্থাৎ ‘থাকব না কেউ পেছনে, গড়ব সমাজ এক সনে’ এ প্রতিপাদ্যকে মনেপ্রানে ধারন করে বিশ্বের সব দেশের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২০ যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২০ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১লা অক্টোবর) রাতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নকলা প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী হিতৈষী সংস্থা’র উদ্যোগে সংস্থার অস্থায়ী কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি আসাদুজ্জামনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য, রাখেন সংস্থাটির সহ-সভাপতি সুমন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী রাজন, সহ-সাধারণ সম্পাদক নূর হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল-আমনি, সদস্য মো. মোশারফ হোসাইন, মকিব হোসেন মামুন ও আবু হামযা কনক প্রমুখ। এর আগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেশ কিছু প্রবীণদের সাথে মতবিনিময় শেষে তাদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলেদেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকগন।

বক্তারা জানান, ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ প্রতিবছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রবীণদের সুরক্ষা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি বার্ধক্যের বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে এ দিবসটি পালন শুরু হয়। তাঁরা জানান, জাতিসংঘ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য ৬০ বছর ও তদুর্ধ্ব এবং উন্নত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ৬৫ বছর ও তদুর্ধ্ব বয়সীদের প্রবীণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিংশ শতাব্দীতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নতি, সচেতনতা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন মৃত্যুহার যেমন হ্রাস করেছে; পাশাপাশি মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। ফলে, বিশ্ব সমাজে বয়স্কদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁরা বলেন, প্রতিটি মানুষ বয়সের শেষ সময় কোন প্রকার অবহেলা সহ্য করতে পারেন না, তাঁরা সকলের ভালোবাসা নিয়ে জীবন কাটাতে চান। তাই পর্যায়ক্রমে প্রবীণদের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও গণপরিবহনে আরো প্রবীণবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি  আহবান জানান তাঁরা।

সমাজ সেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ ষাটোর্ধ্ব বয়সী। প্রবীণদের কল্যাণে সরকারিভাবে নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমে প্রবীণদের অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে বর্তমান সরকার সর্ব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।