টাঙ্গাইলে ‘ধলেশ্বরী উপজেলা’ প্রস্তাবনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড়

প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২০
75 Views

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইল জেলায় ধলেশ্বরী নামে নতুন একটি উপজেলা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে কিছু স্বার্থন্বেষীমহল। তাদের প্রস্তাবনা মোতাবেক  মির্জাপুর, নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা থেকে দু’টো করে ইউনিয়ন কেটে নিয়ে
কথিত ধলেশ্বরী উপজেলার
প্রস্তাবনা করা হয়েছে। অথচ  এ সংক্রান্ত সরকারি কোন ঘোষণা নাই বা বর্তমান সরকারের কোন প্রতিশ্রুতিও নেই কিবা স্থানীয় সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটুর কোন পরিকল্পনা নেই। তবে জানা গেছে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে জোর তদবির করছে একটি স্বার্থন্বেষী  মহল। বিভিন্ন অনলাইন ও জাতীয় পত্রিকায় এমন  সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনটি উপজেলার সচেতন মহল প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে । ব্যাপক কথা চালাচালি হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ফুঁসে উঠছে সংশ্লিষ্ট  ৬টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ । তারা ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন ।
তারা যে যেখানে আছেন বা যে উপজেলার অংশ হিসেবে আছেন, সেখানেই থাকতে চান । তারা নতুন কোন উপজেলার বাসিন্দা হতে চান না। এ ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা। দলমত নির্বিশেষে সবাই এই প্রস্তাবকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাক্ষান করেছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলার  বানাইল ইউনিয়নের স্থানীয় ভাবখন্ড প্রাইমারী স্কুল মাঠে, মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ও আনাইতারা ইউনিয়নের সকল পেশার  মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।     এ সময় তারা কথিত ধলেশ্বরী উপজেলার সাথে সংযুক্ত করার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। এধরনের প্রচেষ্টাকে অদূরদর্শী ও অন্তর্ঘাতমূলক বলে মন্তব্য করেন বিক্ষোভকারীরা।  যেকোন মূল্যে এই চক্রান্ত রুখে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ বিষয় নিয়ে তিন উপজেলার ৬ ইউনিয়নের মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ধলেশ্বরী উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে গত মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর)  টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মানববন্ধন ও ইউএনওর কার্যালয়ে দাবি পেশ করেছে ধলেশ্বরী উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটি। এ সময় তারা নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত-ই-জাহানের হাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ২টি দেলদুয়ার উপজেলার ২টি ও নাগরপুর উপজেলার ২টি সহ মোট ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে প্রস্তাবিত ধলেশ্বরী উপজেলার দাবি জানান।
এসময় বক্তব্য রাখেন, ধলেশ্বরী উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সহ: অধ্যাপক মো. শিবলী সাদিক, সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম লিটন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, মো. আ. করিম, মোকনা ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, জেলা ১৪ দলের অন্যতম নেতা মাশুকুল হক মুরাদ, খন্দকার হুমায়ন আহমেদ, প্রভাষক মো. আক্তার হোসেন, মো. নজরুল ইসলাম, খন্দকার সাজ্জাদ হোসেন আপেল, মো. জাফর আলী খান প্রমুখ।
ধলেশ্বরী উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সহ: অধ্যাপক মো. শিবলী সাদিক বলেন, প্রস্তাবিত ধলেশ্বরী উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বৈষম্যের শিকার, তারা সরকারের সুষম বণ্টন হতে বঞ্চিত।  আমাদের এলাকা হতে উপজেলা পরিষদের দূরত্ব ১৪ থেকে ১৮ কি.মি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি ‘প্রতিটি গ্রাম হবে শহর’ অথচ এই সব ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া হতে বিচ্ছিন্ন। সাধারণ মানুষের নায্য  অধিকার আদায়ের লক্ষ্য আমরা নতুন ধলেশ্বরী উপজেলা প্রস্তাবনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত-ই-জাহান বলেন – নতুন ধলেশ্বরী উপজেলা প্রস্তাবকগন তিনটি উপজেলার ৬টি দূরবর্তী ইউনিয়নের সমন্বয়ে একটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব পেশ করেছেন। আমি নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নতুন যোগদান করেছি তবে যথাযথ  কর্তৃপক্ষ  এ সংক্রান্ত  নীতিমালা অনুসরনে বর্নিত প্রস্তাবটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করবে।