নকলায় পাঠাকাটা ইউপি’র সাধারণ সদস্য পদের উপনির্বাচন জমে উঠেছে

প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২০
44 Views

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সাধারণ সদস্য পদে উপনির্বাচন জমে উঠেছে। ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেন মৃত্যু বরণ করায় নির্বাচন কমিশন থেকে এ ওয়ার্ডে উপনির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে যথারীতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহার তারিখের পরে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ১০ অক্টোবর শনিবার।

কৈয়াকুড়ী কান্দাপাড়া, দশকাহনিয়া ও আমানিয়াকান্দা এই ৩ টি এলাকা নিয়ে গঠিত ৬ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাািখল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে ৩ জনই বৈধ প্রার্থী হিসেবে গণ্য হন। বৈধ প্রার্থীরা হলেন কৈয়াকুড়ী কান্দাপাড়া এলাকার মৃত ইউপি সদস্য তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. মাফিজুল ইসলাম, একই এলাকার মো. আকরাম হোসেন এবং দশকাহনিয়া এলাকার মো. এনামুল হক।

নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। তারা ভোটারদের ধারে ধারে ঘুরে তাদের সমর্থন আদায়সহ ভোট প্রার্থনা ও দোয়া কামনা করছেন। নির্বাচনী এলাকার হাট-বাজার ও বিভিন্ন দেওয়ালসহ জনবহুল স্থান গুলো পোস্টারে ছেয়ে গেছে।

এলাবাসীদের জিজ্ঞাসায় জানা গেছে, ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সাধারণ সদস্য কৈয়াকুড়ী কান্দাপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেন মৃত্যু বরণ করায় তার ছেলে তরুন সমাজ সেবক মাফিজুল ইসলাম বাবার রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে এ উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় সকলের সহানুভুতি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে গেছে। একই এলাকার তরুণ প্রার্থী আকরাম হোসেন এ নির্বাচনে বিজয়ের লক্ষে রাত-দিন ভোটারদের ধারে ধারে ঘুরে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে দশকাহনিয়া এলাকার এনামুল হক নির্বাচনী প্রচারনায় পিছিয়ে নেই বলেও অনেকে জানান।

প্রার্থী মাফিজুল ইসলাম বলেন, এলাকার উন্নয়নের কথা বিবেচনায় এনে আমি আমার বাবার রেখে যাওয়া অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে এ নির্বাচনে এসেছি। আমার বিশ্বাস এলাকার উন্নয়নে ভোটাররা আমার বাবার আদর্শের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ও এতিমের প্রতি আদর প্রকাশ করে হলেও আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে আমি আমার বাবার আদর্শকে লালন করে সারাজীবন জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো ইনশাআল্লাহ। অন্যএক প্রার্থী আকরাম হোসেন বলেন, আমি বিপুল জনসমর্থন নিয়েই মাঠে নেমেছি। বিজয়ের লক্ষে রাত-দিন ভোটারদের ধারে ধারে ঘুরে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করে যাচ্ছি। ভোটরাদের সাড়া অনুযায়ী তিনি আশা নিয়ে বলেন- আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো  ইনশাআল্লাহ। অন্যদিকে দশকাহনিয়া এলাকার প্রার্থী এনামুল হক বলেন- আমার কোন চাহিদা নেই। জনগনের সেবা করার উদ্দেশ্যে আমি এ উপনির্বাচনে এসেছি। জনগন তাদের ভোটের মাধ্যেমে আমাকে চাইলে তথা আমি নির্বাচিত হলে জনসেবায় সদা তৎপর থাকবো।

এ উপনির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাচন অফিসার তারেক পারভেজ জানান, সাধারণ সদস্য পদটি মৃত্যু জনিত কারনে শূণ্য হওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে জানানো হলে, উপনির্বাচনের ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পরে যথারীতি তফসিল ঘোষণার মধ্যদিয়ে এ উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অত্যান্ত গুরুত্ব সহকারে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, উপজেলার ৬নং পাঠাকাটা ইউনিয়নের উপনির্বাচন হতে যাওয়া ৬নং ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা এক হাজার ৭০৯ জন; এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের চেয়ে ৪১ জন নারী ভোটার বেশি। এ ওয়ার্ডে নারী ভোটার ৮৭৫ জন ও পুরুষ  ভোটার রয়েছেন ৮৩৪ জন। এ নির্বাচনে যে প্রার্থী নির্বাচিত হবেন, সে জনসেবা করার সুযোগ পাবেন সর্বোচ্চ ২০২১ সালের মার্চ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত (৫ মাস)। তাই প্রার্থীরা এ নির্বাচনকে যথাযথ গুরুত্ব দিলেও, সাধারণ ভোটাররা ততটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানান, পাঠাকাটা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফয়েজ মিল্লাতসহ এলাকার অনেকে।