বন্যার প্রকোপে তারা ফেরিওয়ালা

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২০
170 Views

মহসীন আলী : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বন্যার প্রকোপে সংসার যুদ্ধে তারা এখন ফেরিওয়ালা। পর পর কয়েক বারের বন্যায় রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হওয়ায় কৃষক চরম হতাশায় রয়েছে। সেই সাথে আশ্বিন কার্র্তিক মাসে এ অঞ্চলে কৃষি শ্রমিকদের কোন কাজ না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পরেছে। বাধ্য হয়ে সংসার যুদ্ধে নেমেছে তারা। বেছে নিয়েছে হরেক রকম মালের সামগ্রী নিয়ে ফেরিওয়ালার পেশা। নাটোরের সিংড়া থেকে হরেক রকম মালের ব্যবসা করতে তাড়াশে আসেন মোঃ আইয়ুব আলী। দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ তিনি এই ব্যবসার সাথে জড়িত। এখন তিনি বড় বড় শহর থেকে হরেক রকম মালামাল এনে পাইকারী বিক্রি করেন। নিজ এলাকা থেকে ৫ জন ফেরিওয়ালা এনে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাড়াশ অঞ্চলে কাজ না থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন ফেরিওয়ালা আগমন বাড়ছে বলে তিনি জানান। ফেরিওয়ালারা সকাল ৭ টার মধ্যে খাবার খেয়ে হরেক রকম মালের বাক নিয়ে বেরিয়ে পরেন এলাকার বিভিন্ন গ্রামে।

সারাদিন বিভিন্ন গ্রামে মেয়েদের কানের দুল,গার্ডার,ক্লিপ,ব্যান্ড,টিপ,ফিতা,আলতা,চুড়ি,স্নো
পাউডার,স্যাম্পু,শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা,মহিলাদের রান্না বান্নার ছোট ছোট পাতিল,চামচ,কড়াই,কলস,ডিস,বাটি সহ হরেক রকম মালামাল বিক্রি করে সন্ধ্যার পুর্বেই বাড়ীতে ফিরে আসে। হরেক রকম মাল বিক্রি করা হয় নগদ টাকায়, হাসের সাদা পালক(ফৈরা) অথবা মহিলাদের ঝরে পরা চুলের বিনিময়ে। সাদা পালক ও চুল ন্যায্য মুল্যে মহাজন কিনে নেয়।

সন্ধ্যার সংগে সংগে খাবার শেষ করে মহাজনের ঘরে এসে আবার হরেক রকম মাল নিয়ে বাড়ীতে গিয়ে মালামাল বিক্রির পরসা সুন্দর করে সাজিয়ে তার পর ঘুমাতে যায়। হরেক রকম ফেরিওয়ালা আফজাল হোসেন জানান,আমি আগে মানুষের বাড়ী কাজ করেছি। গারস্থদেও বাড়িতে কোন কাজ না থাকায় কাজ পাইনা। আবার বয়স হইচে ভ্যান ও চালাবার পারি না, গায়ে আগের মত বল পাইনা তাই হরেক রকম ফেরিওয়ালা হচি। পয়লা পয়লা সরম লাগছিল । এখন ভাল লাগে। সারা দিনে ৪/৫শ টেকা লাভ থাকে। মহাজন আইয়ুব আলী জানান, করোনার কারনে ৬ মাস ব্যবসা বন্ধ থাকায় আমার ব্যবসা ও হরেক রকম মালের ফেরিওয়ালাদের চরম ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন ব্যবসা পুনরায় চালু হয়েছে। বর্তমানে মানুষের কাজ না থাকায় নতুন ফেরিওয়ালাদের চাপ বাড়ছে।