নাগরপুরে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত মামলা ; বাদী বাবার বক্তব্যে ধূম্রজাল

প্রকাশিত: ৬:৪২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২০
12 Views

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল, জাতীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে টাংগাইলে নাগরপুরের “ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত, থানায় মামলা না নেয়ায় আদালতে বাবা ” এমন সংবাদ পরিবেশনে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার ধুবড়িয়া ইউনিয়নের কাচপাই গ্রামে। ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ – গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৭ ঘটিকায় মামলার বিবাদী একই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মতিউর রহমান মেয়ের ঘরে ঢুকে কুপ্রস্তাব দেয় এতে মেয়ে সাড়া না দিলে তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে মেয়ের ঘাড়ে আঘাত করে। এসময় তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে মতিউর পালিয়ে যায়। পরে মেয়েকে পরিবারের লোকজন উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে চিকিৎসক তার আঘাতের স্থানে ২৫ টি সেলাই করে। তিনদিন চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ী চলে আসে। আঘাত প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর শরীরের ¶ত এখনও শুকায়নি। আসামী মতিউর এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাকে গ্রেফতার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে থানা পুলিশ। মামলার প্রস্তুতি ও মামলা সংক্রান্ত বিভান্তমূলক তথ্য – (ক) এ ঘটনায় মেয়ের বাবা নাগরপুর থানা পুলিশকে অবহিত করে। বাদীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে ৬ অক্টোবর বিকেল ৪:১৫ মিনিটে বিবাদী মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ৪৪৭/৪৪৮/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০৬ পেনাল কোড ১৮৬০ রুজু করা হয়। মেয়ের বাবা বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১ নং আসামী মতিউর রহমান আমার প্রতিবেশী। তার সাথে আমার ছেলে শামীম রানার সাথে চলাফেরা করে, সুম্পর্ক। সেই সুবাধে বিবাদী আসা যাওয়া করে। আসামী মোঃ মতিউর রহমান আমার মেয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী মীম আক্তার (১৭) কে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। মেয়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। আমার মেয়ে মীম আক্তারের অনত্র বিয়ের কথাবার্তা চলতেছে। বিবাদীর বাবা আব্দুস সালাম ছেলের জন্য বিবাহের প্রস্তাব দেয়। আমি তার প্রস্তাবে রাজি হই নাই। অনত্র বিয়ের কথা আসামী মতিউর রহমান ও তার পিতা আব্দুস সালাম জানতে পেয়ে আমার গত ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ ঘটিকার সময় আমার বাড়ীতে এসে অনিধিকার প্রবেশ করে আমার মেয়েকে খুন করার উদ্দেশ্যে ধারালো চাকু দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে আঘাত করে। কাঁধে হাতে রক্তাক্ত করে। চিৎকার পেয়ে আমি আমার স্ত্রী সহ এগিয়ে যাই। আসামীকে আমার স্ত্রী ঝাপটে ধরে আটকানোর চেষ্টা করে। এ সময় মতিউর পালিয়ে যায়। আসামী গণ সুযোগ মত পাইলে খুন করিয়া লাশ গুম করবে মর্মে হুমকি প্রদান করে। পরে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করি। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকিৎসক টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চিকিৎসা সেবার ব্যস্ত থাকায় থানায় এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হইল। (খ) এ ঘটনায় মেয়ের বাবা পুনরায় গত ৭ অক্টোবর বিজ্ঞ আদালত চলাকালীন সময়ে বিবাদী মতিউর রহমান বিরুদ্ধে ২০০০ ইং সনের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও উহার সংশোধনী ২০০৩ ইং সনের ১৭ ধারার বিধিমালায় মিথ্যে মামলা বা অভিযোগ দায়েরে ইত্যাদি শাস্তি সম্পর্কে অবগত হয়ে হলফনামা দাখিল করিলাম। মামলায় হলফনামায় বাদী উল্লেখ করেন, বিবাদী গত ২৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার সময় বিবাদী নাবালিকা কন্যার ঘরে ঢুকে একা পেয়ে জাবরাইয়া ধরিয়া তাহার মুখ বামহাত দিয়ে চেপে ধরে ও শরীরের গোপন অঙ্গ সূমহে হাত দেয় এবং প্লাস্টিকের হাতল বিশিষ্ট চাকু দেখিয়ে জোড়বলে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় মেয়ে বিবাদী মতিউর রহমানের হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করে মুখের হাত সরিয়ে ডাক চিৎকার করলে বিবাদী আমার মেয়ে কে খুন করার অসৎ উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে মেয়ের গলার ডান পাশে গরু জবাই করার মত আঘাত করে মারাত্মক কাটা রক্ত জখম করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিবাদী যাওয়ার সময়কালে ঘটনাস্থলে কতক স্বাক্ষি বিবাদী কে আটকানের চেষ্টা করলে বিবাদীর হাতে থাকা ছুরি, স্যান্ডেল ও মোবাইল সেট ফেলে যায়। কতক স্বাক্ষি আমার মেয়েকে চিকিৎসার জন্য নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেন। এদিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আনুমানিক সকাল ১০ ঘটিকার সময় বাদী বিবাদী মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে নাগরপুর থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানার দারোগা পুলিশ এজাহার লিখিয়া বাদীর স্বাক্ষর  রাখিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না করায় ঘটনার বিষয়ে অসহায় বাদী বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে শেষ পর্যন্ত কোথাও কোন বিচার না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে বাদী বিচারের দাবিতে বিজ্ঞ ট্রাইবুনালে এজাহার দাখিল করে। ঘটনার স্বাক্ষি আছে। প্রয়োজনে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করে ঘটনা প্রমাণ করবেন। মোকদ্দমা দায়েরের জন্য অত্র এজাহারের সাথে একটি হলফনামা, জখমের ছবি ও চিকিৎসা পত্র দাখিল করা হলো। থানা ও আদালতে ভিন্ন তথ্য প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে বিবাদী মোঃ বেল্লাল হোসেন বলেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার সময় আমার মেয়ে বিবাদীর ধারালো চাকুর আঘাতে ঘটনাস্থলে আহত হলে মেয়ের সুচিকিৎসার জন্য পরিবারের সবাই ব্যস্ত থাকি। এ সময় তাকে সুস্থ করার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। অসুস্থ মেয়ে কথা বলতে না পারায় আমি অনুমান নির্ভর একটি অভিযোগ থানায় দাখিল করি। পরবর্তীতে আমার মেয়ে সুস্থ হলে তার কাছে জানতে পারি যে, বিবাদী মতিউর রহমানের সাথে তার কোন প্রেমের সম্পর্ক নেই। ঘটনার দিন মতিউর আমার মেয়েকে জোড় পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে ও তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরবর্তী আমি গত ৭ অক্টোবর আদালতে ধর্ষণে ও খুন জখমের চেষ্টা করে বলে মোকদ্দমা দায়ের করি।নাগরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের ও মামলা রুজু করতে পুলিশের গড়িমসি বিষয় সমন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার পরের দিন ১৫ সেপ্টেম্বর বিবাদীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ নাগরপুর থানায় দাখিল করি। পরে থানা পুলিশ স্বাক্ষর রাখিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না করায় ন্যায় বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলম চাঁদ জানান, মামলার বাদী মোঃ বেল্লাল হোসেন আহত মেয়ের চিকিৎসাকার্যে ব্যস্ত থাকায় তাৎ¶ণিক লিখিত অভিযোগ থানায় দাখিল করতে না পেরে ঘটনা পরবর্তীতে নাগরপুর থানায় এসে মৌলিকভাবে অবহিত করেন ও স্থানীয় লোকজন বাদী ও বিবাদী প¶ সমাধানের চেষ্টা করেন। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হওয়ায় গত ৬ সেপ্টেম্বর তারিখে লিখিতভাবে থানায় অভিযোগ দাখিল করলে তা থানা পুলিশ মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।