এটাই হয়তো জীবনের শেষ ভোট দেওয়া!

প্রকাশিত: ৩:২০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০
30 Views

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ ভোট দেওয়া! শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সাধারণ সদস্য পদে উপনির্বাচনে মেয়ের কোলে চড়ে ভোট দিতে আসা কৈয়াকুড়ি কান্দাপাড়া এলাকার মৃত তালেব আলরি স্ত্রী ছবুরুন নেছা (৭৮) শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে বালিয়াদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বেড় হয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের  কাছে এসকল কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার অনেক বয়স হয়েছে। শরীরের অবস্থায় খুব খারাপ। চোখে ভালোভাবে দেখিনা। হাটতে চলতেতো পারিই না। যেকোন দিন পরপারে চলে যাব। আগামী কোন নির্বাচনে ভোট নাও দিতে পারি, তাই ছেলে-মেয়েকে বলে হয়তোবা জীবনের শেষ ভোট দিয়ে গেলাম। পছন্দের প্রার্থী (সম্পর্কে নাতি)-কে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগতেছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সাধারণ সদস্য কৈয়াকুড়ী কান্দাপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেন মৃত্যু বরণ করায় ওই পদে উপনির্বাচন হয়। এ নির্বাচনে ইউপি সদস্য মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. মাফিজুল ইসলাম, একই এলাকা কৈয়াকুড়ী কান্দাপাড়া থেকে মো. আকরাম হোসেন ও দশকাহনিয়া এলাকার মো. এনামুল হক প্রতিদ্বন্ধীতা করেন। এতে মো. মাফিজুল ইসলাম টিউবওয়েল প্রতীকে ৫৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী এনামুল হক মোরগ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫২ ভোট এবং অপর এক প্রার্থী আকরাম হোসেন ফুটবল প্রতীকে ২৫৮ ভোট পেয়েছেন।

৫টা বাজার কয়েক মিনিট পরে ভোট গ্রহন কাজ শেষ করা হয় এবং বিকেল পৌণে ৬টার দিকে ভোট গণনা শেষ হয়। নিদৃষ্ট সময়ে এক হাজার ১৮৮ ভোটার এ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গণনায় ১১ ভোট নষ্ট বলে গণ্য হয় এবং এক হাজার ১৭৭ ভোট বৈধ হিসেবে গণনা করা হয়। এ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৪টি বুথে (২টি পুরুষ ও ২টি মহিলা বুথ) ভোট গ্রহন চলে। এ উপনির্বাচনে মোট ভোটার এক হাজার ৭০৯ জন; এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার ৪১ জন বেশি। এ ওয়ার্ডে নারী ভোটার ৮৭৫ জন ও পুরুষ  ভোটার ৮৩৪ জন। নিদৃষ্ট সময়ে এক হাজার ১৮৮ ভোটার এ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

সর্বোচ্চ ২০২১ সালের মার্চ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত (৫ মাস) পর্যন্ত নির্বাচিত ইউপি সদস্য জনসেবা করার সুযোগ পাবেন, তাই প্রতিবন্ধী প্রার্থীরা এ নির্বাচনকে গুরুত্ব দিলেও, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভোট গ্রহনের আগের দিন পর্যন্ত ততটা প্রভাব দেখা যায়নি। তবে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ায় ভোট গ্রহনের দিন (১০ অক্টোবর) সব শ্রেণী বয়সের ভোটারের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া সকল শ্রেণীর ভোটারের উপস্থিতিতে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এলাকাবাসীরা সন্তুষ্ট। নির্বাচন নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার-বিডিপি সদস্য, র‌্যাব সদস্য (র‌্যাব-১৪), ভ্রাম্যমান টিম নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন।