বাউফলে করোনায় থম্কে আছে শিশুদের জ্ঞানের রাজ্য

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২০
280 Views

এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী:
‘এসো জ্ঞানের রাজ্যে’ শিশুদের উদ্দেশ্যে বাউফলের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা রয়েছে জ্ঞান তাপসের ওই বাক্যটি। বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে ঢুকতেই চোখে পড়ে ওই লেখাগুলো। সম্প্রতি বাউফলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলো যেন নিরবে দাড়িয়ে শিশুদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে,এসো জ্ঞানের রাজ্যে। আমরা তোমাদের জ্ঞানদানে প্রতিক্ষায় আছি। কিন্তু এ ডাক কেউ শোনে না! আর শোনবেইবা কেন..? করোনায় কান স্তব্ধ করে দিয়েছে। করোনার পূর্বে ওই জ্ঞানের রাজ্যে শিশুদের কলকাকুলিতে মুখরিত হয়ে উঠতো বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গন। সকাল ৯ টা বাজার সাথে সাথেই ছোটমনিরা স্কুল ব্যাগ কাঁদে-পিঠে ঝুলিয়ে মা-বাবার সাথে ছুটে যেতো জ্ঞানের রাজ্যে। সেখানে গিয়ে খেলার সাথীদের সংগে খেলাধূলায় মেতে উঠতো। শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারনায় সরব থাকতো পুরো এলাকা। বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে নানান কারুকার্য ও আলপণা। বারান্দার টবে সাজানো রয়েছে প্রাকৃতিক ফুলের বাগানসহ জীব-জানোয়ারের প্রতিকৃতি। শিশুরা যাতে বাংলায় ও ইংরেজিতে বারমাসের ও ৭দিনের নাম শিখতে পারে কাগজের বিভিন্ন আলপনার মধ্যে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দেয়াল গুলোতে। রয়েছে জাতির পিতার প্রতিকৃতি। অংক শিখানোর জন্য রয়েছে অনেক উপকরণ। বড় বড় মণীষীদের ছবি নামসহ দেয়ালে টানানো রয়েছে। লেখা হয়েছে বিভিন্ন উক্তি যেমন,“শিখবে শিশু হেসে খেলে, শাস্তি মুক্ত পরিবেশ পেলে’’। “যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি ততো উন্নত”। “সকল শিক্ষার ভিত্তিই প্রাথমিক শিক্ষা”। “শিক্ষিত মা এক সুরভিত ফুল, প্রতিটি ঘর হবে এক একটি স্কুল”। এতে করে শিশুরা বিনোদনের সাথে জানতে ও শিখতে পারছে অনেক জানা-অনাজানা তথ্য। আর এই আনন্দের মাঝেই তারা পড়ালেখা শিখছে। সব কিছুই যেনো থম্কে দিয়েছে করোনায়। গত মার্চ মাস থেকে অদ্যাবধী শিশুদের ওই জ্ঞানের রাজ্য শিক্ষার্থী শূণ্য অবস্থায় দাড়িয়ে হাতছানি দিয়ে নিরবে ডাকছে এসো আমাদের রাজ্যে, এসো তোমাদের কোন ভয় নেই। আমরা আছি তোমাদের পাশে। শিশুর অভিভাবক আব্দুল খালেক নামের এক রিকশা চালক বলেন- ‘আমার পোলাডারে (ছেলে) লইয়া বড় কষ্টে আছি রাইত পোহাইলেই(শেষে) কয় বাবা বই দাও,ব্যাগ দাও আমি স্কুলে যামু। স্কুলে যাইয়া খেলমু তখন বাবা বলে স্কুলে যাওয়া লাগবে না ওইহানে বাঘ আছে। বাঘে খাইয়া হালাইবে।’এভাবইে আব্দুল খালেক’র মতো অনেক অভিভাবক শিশুদেরকে বিভিন্ন ভয়ভিতি দিখিয়ে ঘরে আটকিয়ে রাখছেন। অভিভাবক সালমা বেগম বলেন-তার মেয়ে বাউফল দাশপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেনিতে পড়ে। ওর লেখা পড়া নিয়া আমি মানুসিকভাবে দুর্শ্চিন্তায় আছি। স্কুল যে কবে খুলবে কেউই বলতে পারে না। স্কুল বন্ধ থাকার কারনে মেয়েটি পড়ার টেবিলে মোটেই বসতে চায় না। এরকম স্কুল বন্ধ থাকলে লেখাপড়া করানো সম্ভব হবে না।
এ প্রসঙ্গে বাউফল দাশপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা ইয়াছমিন লিপি বলেন,শিুশুদের লেখা পড়া নিয়ে মানুসিক চাপে আছি। একদিকে দরিদ্র শিশুদের ঝরে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপর দিকে আমরা পড়াতে না পেরে শিশুরা আমাদের ¯েœহ্-ভালোবাসা থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানাগেছে উপজেলায় ২৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী লেখা-পড়া করছে। বাউফল চরবেষ্টিত উপজেলা হওয়ায় অধিকাংশ শিশু’র অভিভাবকরা দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবন যাপন করছে। ফলে ওই সমস্ত চর এলাকায় শিশুদের ঝরে পড়া ও বাল্য বিয়ে বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে বিষেজ্ঞদের অভিমত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রিয়াজুল হক বলেন- এসময় শিশুদের ঝরে পড়া ও বাল্য বিবাহ বেড়ে যাওয়ার খুব একটা সম্ভবনা নেই। কারন এব্যাপারে আমরা প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষদের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছি।