তাড়াশে ইউনিয়ন সভাপতি পদপ্রার্থী আক্কাছ আলী’র মঞ্চে বক্তব্য

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০
95 Views

মহসীন আলী,তাড়াশ: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সভাপতি পদপ্রার্থী আক্কাছ আলী মঞ্চের বক্তব্যে এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বুধবার বিকালে তালম ইউনিয়নের তালম সাহেব বাজারে ৮নং ওয়ার্ডের রজব আলীর ছেলে আক্কাছ আলী মঞ্চ তৈরী করে মাইক লাগিয়ে তালম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দিয়ে বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি বলেন ,আমি তৃণমূল পর্যায়ের একজন সাধারণ মানুষ এব্ং আওয়ামী পরিবারের সন্তান। বর্তমান তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দুটি কথা বলার জন্য আপনাদের সমানে দাঁড়িয়েছি।। ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার স্বপরিবারে হত্যার পর আওয়ামীলীগের যখন দুর্দিন তখন বাংলাদেশের কোন মানুষকে আওয়াামীলীগের কোন সভা, মিছিল, মিটিং এ পাওয়া যেত না। মনে ভয় ছিল, কখন যেন জানি জীবন চলে যায় । ১৯৭৫ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর থেকে তালম ইউনিয়ন বাসীর জন্য রজব আলী আওয়ামীলীগের পাশে থাকত। সেই দুর্দিন ও অন্ধকারাচ্ছন্য দিন গুলোতে কেউ থানা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায় হাল ধরতে সাহস পেত না। কিন্তু সেই দিনে আমার বাবা রজব আলী হাত গুটিয়ে ঘরে বসে থাকতে পারেন নি। দীর্র্ঘ ১৭ বছর স্বেচ্ছা শ্রম আর অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সাহসিকতার সাথে ওয়র্ড সভাপতির দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছিলেন। যখন আওয়ামীলীগের সুদিন আসল তখন স্বইচ্ছায় পদ ছেড়ে দিয়ে রেখে গেলেন সুদুর প্রসারী সুন্দর, সুশৃংখল ও একটি জনবান্ধব সংগঠন। কিন্তু আজ প্রশ্ন উঠে কোথায় গেল সেই সংগঠন ? সমর্থক ও নেতা বেড়েছে সত্য কিন্তু দলের মধ্যে ভালবাসা ও আন্তরিকতার বরই অভাব। একজন আরেকজনকে দেখতে পারে না, একজনের নেতৃত্ব আরেকজন মানতে পারছে না বা মানছে না। দলের মানুষের মধ্যে একটি বৈরিভাব ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। পথে, ঘাটে, স্টলে এবং বাজারে একজন আরেক জনের বদনাম আর কুরচনা নিয়ে ব্যতি ব্যস্ত। কেন এমন হচ্ছে ? এ প্রশ্নই আজ জনমনে। এমন হওয়ার কথা তো কথা ছিল না ? আইন চলবে আইনের ধারায়, দল চলবে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আর নেতা চলবে দলের নীতির উপর নির্ভর করে । কিন্তু কেন এমন হচ্ছে ? উত্তরটা অনেকের কাছে মিলছে না। উত্তরটা হল ঃ তথ্যাবধায়ক সরকার ফখর উদ্দিনের পর আওয়ামীলীগ সরকারের দীর্ঘ সময় কাল ¶মতা থাকায় বিএনপি, জামাত এবং শিবিরের ওয়ার্ড পর্যায়ের কিছু সংখ্যক কুচক্রী নেতা কর্মী আওয়াামীলীগের ভিতরে ঢুকে তাদের বড় বড় কথা বলে ও চাল চলনে খাটি আওয়াামীলীগ সেজেছে আর আসল আওয়ামীলীগ এখন পিছনের কাতারে থাকছে। আজ তারা দলে এসেই পরের দিন বড় বড় পদ নিতে ব্যস্ত হয়ে পরেছেন। তিনি আরও ক্ষোভ করে বলেন,অনেকেই আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের খাতায় তাদের নাম লিখিয়ে আজ হয়েছে বড় আওয়ামীলীগ। হাইব্রিড নেতা। আজ সঠিক নেতৃত্বের বড়ই অভাব। এখন নেতা হয়েছে নেতা বান্ধব ও আত্মীয় বন্ধব। এ সকল দুর্বল নেতৃত্বের কারনে ঐ সকল কুচক্রী মহল দলের ভিতরে ঢুকতে সাহস পেয়েছে।। বিএনপি, জামাত, শিবির জানে যে, তৃণমূল পর্যায়ে যদি আন্দোলন, জনমনে আতংক ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করা না যায় তাহলে আমরা কোন দিনও ¶মতায় যেতে পারব না। তাই তারা দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে ঢুকে আত্মগােপন করে আছে। এবং তারা আওয়ামীলীগের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করার জন্য পায়তারা করছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে যেমন বেঈমানী করা হয়েছিল, ঠিক না জানি কোন দিন এই সকল হাইব্রিড ও কুচক্রী নেতারা অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মত জ্বলে উঠে আওয়াামীলীগকে নিশ্চিন্ন করে দেয়। তাই সকলের কাছে বিনয়ের সুরে বলতে চাই, আপনারা সবাই এ সকল কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই, স্বোচ্চার হই এবং এদেরকে উৎখাত করেন নইলে একদিন দেখা যাবে যে, আওয়ামীলীগ সেই ১৯৭৫ সালের মত পরিনিত হবে । আসুন আমরা সবাই মিলে ভোগী নেতাদের ত্যাগ করি এবং ত্যাগী নেতা ও জনবান্ধব নেতার নেতৃত্ব গড়ে তুলতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর বহমানের সেই অমর স্লোগান, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড় তাই সকলে মিলে ত্যাগী নেতা ও জনবান্ধব নেতার নেতৃত গড়ে তুলি। পরিশেষে তিনি তালম ইউয়িনের সভাপতি পদে রায় পাওয়ার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হক বলেন, প্রচারনার জন্য কেই না কেউ মিটিং মিছিল করবে তবে আক্কাছ আলীর প্রচারনা একটু ব্যতিক্রম হয়েছে। আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা যদি তার পাশে থাকে তাহলে অবশ্যই সে সভাপতি পদে প্রার্থীতা দাবি করতে পারবে।