শেরপুরের নকলায় বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন

প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০
210 Views

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় বিভিন্ন এলাকার পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমানসহ অনেকে। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ও ২৪ অক্টোবর শনিবার রাতে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমানের সফর সঙ্গী হিসিবে ছিলেন- নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন শাহ, উপজেলা বিআরডিবি অফিসার মো. মোশাররফ হোসেনসহ উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগন।

গনপদ্দী শাহাপাড়া এলাকার পূজা মন্ডপ পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শ্রী বিপিন বিশ্বাস, এ মন্ডপের পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী বীরেন্দ্র চন্দ্র সাহা ও সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা শ্রী তপন কুমার সাহাসহ অন্যান্য সদস্য, পূজারী বা ভক্তবৃন্দ, পুলিশ সদস্য ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী স্থানীয় জনগন ও আনসার-বিডিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন মন্ডপ পরিদর্শন শেষে ইউএনও জাহিদুর রহমান পূজা মন্ডপের দৃষ্টি নন্দন নির্মান কৌশুলী ও রংয়ের জন্য প্রতিমা নির্মাতাদের প্রসংশা করেন। তাছাড়া সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে সুষ্ঠু ভাবে পূজা উদযাপনের আয়োজন করায় সংশ্লিষ্ট পূজা মন্ডপ পরিচালনা কমিটি ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।

নকলা উপজেলা শহরের প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত কালী মাতার মন্দির পূজা মন্ডপের সভাপতি শ্রী সুরঞ্জিত কুমার বণিক জানান, ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠী, তারপর পর্যায়ক্রমে মহাসপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এবং সর্বশেষে ২৬ অক্টোবর সোমবার বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মাধ্যমে এবারের পূজা উদযাপন শেষ হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নকলা উপজেলা শাখার সভাপতি দেবজিৎ পোদ্দার ঝুমুর জানান, এবারের পূজাতে করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতা মূলক করা হয়েছে। এ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ কুমার বণিক জানান, এবছর নকলা উপজেলায় ১৮টি পূজা মন্ডপে পূজা উদযাপন করা হচ্ছে; এর মধ্যে নকলা পৌরসভা এলাকায় ৪টি, গনপদ্দী ইউনিয়নে ৪টি, নকলা ইউনিয়নে ২টি, উরফা ইউনিয়নে ৩টি, পাঠাকাটা ইউনিয়নে ২টি, টালকী ইউনিয়নে একটি, চরঅষ্টধর ইউনিয়নে একটি ও চন্দ্রকোণা ইউনিয়নে রয়েছে একটি।

অনেক পুরহিত জানান, এবার শ্রী শ্রী দুর্গা দেবী দোলায় চড়ে আগমন করেছেন এবং যাবেন গজে চড়ে। দেবীর আগমনটা অপেক্ষাকৃত কম সুখকর হলেও, প্রস্থানটা হবে শান্তিময়; এমনটাই জানিয়েছেন পুরহিতগন। তাঁরা বলেন, এবার ভক্তদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেবীর আগমন ও প্রস্থানে শস্য উৎপাদন বাড়বে, দূর হবে করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) নামক অদৃশ্য মরন ঘাতক, দুর্গা দেবীর সুদৃষ্টিতে সর্বময় শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে; বিশ্ব হবে মঙ্গলময়।

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন শাহ জানান, প্রতিটি পূজা মন্ডপে আনসার সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও টহল পুলিশ নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আছেন। ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের টি.আই শাহাবদ্দিন জানান, পূজাতে যেন কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা বা জনজটের সৃষ্টি না হয়, সেদিকে ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্যরা সদা তৎপর রয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান বলেন, উপজেলার প্রতিটি মন্ডপে সরকারের সকল নির্দেশনা মোতাবেক করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এবার নকলা উপজেলার ১৮টি পূজা মন্ডপসহ শেরপুর জেলায় ১৪২ টি মন্ডপে পূজা উদযাপন করা হচ্ছে। এরমধ্যে শেরপুর সদর উপজেলার ৬২টি মন্ডপে, নালিতাবাড়ী উপজেলায় ৩৫টি, নকলা উপজেলায় ১৮টি, ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১৭টি ও শ্রীবরদী উপজেলায় ১০টি মন্ডপের মাধ্যমে দুর্গা পূজা উদযাপন হচ্ছে।