নকলায় আবারও অননুমোদিত গানের আসর! স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২০
164 Views

শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় আবারও অননুমোদিত গানের আসরে ভ্রাম্যমান আদালতের হানা!  ৪ নভেম্বর বুধবার রাত আড়াইটার সময় উপজেলার উরফা ইউনিয়নের হাসনখিলা বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অননুমোদিত গানের আসর বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত কাল মঙ্গলবার রাতে পৌরসভার লাভা এলাকায় ঝাঁকঝমক পূর্ণ ভাবে নাচ-গানের আয়োজন করায়, সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বেশ কিছু মালামাল জব্দ করাসহ ২ জনকে অর্থদন্ড করা হয়। ঠিক এর পরের দিন বুধবার রাতে উপজেলার উরফা ইউনিয়নের হাসনখিলা বাজারে অননুমোদিত গানের আসর বসে! এমন সংবাদ পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে রাত আড়াইটার সময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।

গাড়ীর আওয়াজ পেয়ে আয়োজকরা পালিয়ে গেলেও এক নারী শিল্পীকে এক হাজার টাকা ও এক পুরুষ যন্ত্র বাদককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাছাড়া মঞ্চের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ডেকোরেশনের বেশ কিছু মালামাল জব্দ করে নকলা থানার হেফাজতে নেওয়া রয়েছে। এ আদালত পরিচালনার সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদ, নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন শাহসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান জানান, সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে এবং কোন প্রকার অনুমতি না নিয়ে ঝাঁকঝমক পূর্ণ ভাবে গানের আয়োজন করায় এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। কিন্তুআদালতের বিষয়টি টের পেয়ে আগেভাগেই আয়োজকরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মঞ্চের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ডেকোরেশনের বেশ কিছু মালামাল জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তাছাড়া করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) এর সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশনা না মানায় ও মাস্ক ব্যবহার না করে গানের আসরে আসায় এক নারী শিল্পীকে এক হাজার টাকা ও এক পুরুষ যন্ত্র বাদককে ২ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। জনকল্যাণে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নকলা ইউএনও জাহিদুর রহমান। জনকল্যাণে ইউএনও মহোদয়ের এমন কর্মকান্ডের সাথে ঐকমত্য পোষন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার আহাম্মেদ, নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন শাহসহ অনেক সুশীল জন।

জানা গেছে, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) সংক্রমনের দ্বিতীয় পর্যায় চলেছে। এ জন্য জনস্বার্থে তথা কোভিট-১৯ সংক্রমণ রোধে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা পালনে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ কঠোর ভূমিকা পালন করলেও, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রশাসনের এমন কর্মকান্ডকে অবমাননা করে নাচ-গানের আসর বসানোতে জনমনে প্রশ্ন উঠছে। সুশীল সমাজের অনেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলছেন। তাঁরা জানান, করোনা কালীন এমন সময় দেশের যেকোন এলাকায় নাচ-গান বা যেকোন জনসমাবেশ করতে গেলে অবশ্যই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুমতি নেওয়া হয়। এমনকি নাচ-গান বা যেকোন জনসমাবেশ মূলক কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক সহায়তা পর্যন্ত করতে হয় বলে তারা জানান। প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ কঠোর ভূমিকা রাখার পরেও যেহেতু নিয়মিত নাচ-গানের আসর বসানো হচ্ছে! সেহেতু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বিষয় বলে অনেকে মনে করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ভোটের আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেক বিষয়ে নিরবতা পালন করতে হয়। কিন্তু এমন কথার জবাবে অনেকে বলেন- নিজের প্রয়োজনে বিশাল জনসমষ্টিকে বিপদ বা ঝুঁকির মুখে ঠেলা দেওয়া কোন সচেতন নাগরিকের কাজ হতে পারে না। তাই জনস্বার্থে তথা দ্বিতীয় ধাপের কোভিট-১৯ সংক্রমণ রোধে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে বলে বিভিন্ন পেশা শ্রেণীরা মনে করছেন।