সুনামগঞ্জে রোহিঙ্গাদের নাগরিক সনদ প্রদান, মেয়রসহ ৯জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট

প্রকাশিত: ১১:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২০
260 Views
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
রোহিঙ্গাদের নাগরিক সনদ প্রদান করায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দিয়েছে পুলিশ।
গত (২১ অক্টোবর) সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদলতের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিচারকের কাছে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক এসআই এ কে এম জালাল উদ্দিন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট কার্যালয়ে পাসপোর্ট করতে আসেন দুই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে একজন নারী ছিলেন। তারা টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চার ব্যক্তির সহযোগিতায় সুনামগঞ্জে আসেন। এই চার ব্যক্তি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ওই দিন সকালে পাসপোর্ট করতে গিয়ে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। বিকেলে আবার ছবি তোলা ও আঙ্গুলের ছাপ দিতে পাসপোর্ট কার্যালয়ে গেলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে দুই রোহিঙ্গা ও তাদের সহযোগী চার ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেন পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। পরে সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই জিন্নাতুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার তেরানগর গ্রামের মো. ফরহাদ আহমদ (৩৬), রামনগর গ্রামের মো. নূর হোসেন (২৩), সুজাতপুর গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন (২৪) ও আমির উদ্দিনকে (২৩) আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
কিন্তু চার্জশিট প্রদানকালে এজহারভুক্ত এই চার আসামি ছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে সুনামগঞ্জ পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল, পৌরসভার সহকারী কর আদায়কারী পিযুষ কান্তি তালুকদার, পৌরসভার জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধক ও স্যানিটারী পরিদর্শক মো. সেলিম উদ্দিন, পৌরসভার মেয়র নাদের বখত ও সুনামগঞ্জ বারের আইনজীবী  কাওসার আলমকে ।
এজহারভুক্ত এই চার আসামি ছাড়াও মেয়র, আইনজীবী, কাউন্সিলর  ও পৌরসভার কর্মকর্তাকে কেন অভিযুক্তদের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক এসআই এ কে এম জালাল উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ প্রদান প্রক্রিয়ায় পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরসহ ওই কর্তকর্তারা যুক্ত আছেন। পরে আইনজীবী কাওসার আলম সেটি সত্যায়ন করেছেন। তাই অভিযুক্তদের তালিকায় তাদের যুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, সামনে পৌর নির্বাচন, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্নিত হয়ে আমাকে মানসিক চাপে রাখার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, আর জন্ম নিবন্ধন সনদে আমি সরাসরি স্বাক্ষর করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ আবেদন করলে প্রথমে ওই ব্যক্তিকে সনাক্ত করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এরপর কর আদায় শাখা দ্বিতীয়বার ওই ব্যক্তির হোল্ডিং নম্বর যাচাই করে। তৃতীয়ধাপে নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা সব কাগজপত্র যাচাই শেষে মেয়রের কাছে উপস্থাপন করলে মেয়র তাতে স্বাক্ষর করেন।
তিনি আরো বলেন, ওই বছরের ২ এপ্রিল আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছিলাম। আদৌ আমি ওই জন্মসনদে স্বাক্ষর করেছি কি-না, সেটিও দেখতে হবে। মামলায় আমার নাম এজহারে ছিল না। এখন দেড় বছর পর এসে আমাকে যুক্ত করা হয়েছে এবং এটি আমি বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পেরেছি।