অতিথি পাখির কিচির মিচির শব্দে মূখরিত হয়ে উঠেছে আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান

প্রকাশিত: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০
0Shares

মো.রুবেল হোসেন , নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

সীমান্তের কোল ঘেষা উপজেলা হিসেবে পরিচিত নওগাঁর ধামইরহাট। আর নওগাঁ জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান।শীতকাল পড়ার সাথে সাথে চার দিক থেকে ঝাঁক বেঁধে ছুটে এসে আপণ মনে মেতে উঠেছে পরিযায়ী পাখিরা। পাখির কিচির মিচির শব্দে যেন মূখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। শীতের তীব্রতা যত ঘনিয়ে আসছে দুর দুরান্ত থেকে পাখিরাও ততোটাই আসতে শুরু করেছে। যেন এক অপরুপ নতুন সাজে মেতে উঠেছে আলতাদিঘী।

একদিকে শীতকাল অন্যদিকে পাখির কলকাকলি যেন জাতীয় উদ্যানে আসা দর্শনার্থীদের মন কেড়েছে। এমন  মনমুগ্ধকর পরিবেশে একবার ঘুরে আসলে মনের ভেতরে তৈরী হবে এক স্বপ্নের বসবাস। নিমিষে মনের মধ্যে জমে থাকা আর্তনাদ ভুলিয়ে ফিরিয়ে আনবে এক তৃপ্তিকর অনুভুতি। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী সামাজিক বনবিভাগের আওতায় নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় পাইকবান্দা রেঞ্জের অধীনে ধামইরহাট বিটে অবস্থিত। নওগাঁ সদর থেকে ৬০ কি.মি. দুরে ধামইরহাট উপজেলায় অবস্থিত এই আলতাদিঘী নামের জাতীয় উদ্যানটি। যার মোট আয়তন ২৬৪.১২ হেক্টর। এই বনভূমির মাঝখানে ৪৩ একর আয়তনে গড়ে ওঠা এক বিশাল দিঘী। পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয় ২০১১ সালে ‘আলতাদিঘী জাতীয় উদ্যান’ হিসেবে ঘোষনা করেছে। ২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও জাতীয় উদ্যানের পাশের ১৭.৩৪ হেক্টর বনভুমিকে ২০১৬ সালের ৯ জুন তারিখে বাংলাদেশ বন অভিদপ্তর বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষনা প্রদান করে। সরে জমিনে দেখা গেছে, শৈত্যপ্রবাহে শীতের আদ্রতা বাড়তে থাকায় দেশের গন্ডি পেরিয়ে নানান দেশ থেকে দল বেধে এসে ঝাক বেধেছে ওই দিঘীর পুরো এলাকা জুড়ে পরিযায়ী পাখিরা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাজ সরালি, পাতি সরালি, বালিহাঁস, রাজহাঁস, মান্দারিন হাঁস, গোলপী রাজহাঁস, ঝুটি হাঁস, চকাচকি, চিনা হাস, কালোহাঁস, বুনো হাঁস, লালশির, ণীলশীর, মানিকজোড়া, জলপিপি, ডুবোরী পাখি, হরিয়াল পাখি, রামঘূঘু, কাদাখোচা ও বিভিন্ন প্রজাতির গাংচিল ইত্যাদি। প্রতিবছর শীতকালে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব পরিযায়ী পাখিরা আলতাদিঘী শালবনকে এক অপরুপ সাজে সাজিয়ে তোলে। সাধারণত মাঘ মাসের শেষ অবদি দেখা মিলে এদের বিচরণ। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে আলতাদিঘীতে পাখির সংখ্যা কম দেখা মিলেছে। আর এই শীতকালে শালবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা ভ্রমণ পিপাষুরা দল বেধে ঝাকে ঝাকে উড়ে আসা পাখির ছোটাছুটি আর দুরন্তপনায় মুগ্ধ হয়ে ফিরেন। এসব পরিযায়ী পাখি নিধনে প্রশাসন সর্বদা কড়া নজরদারী রাখেন বলে জানান বন পরিদর্শকরা।