বাউফলে ফেরী ঘাটে টোল আদায়ের নামে চলছে নৈরাজ্য

প্রকাশিত: ৭:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২১
0Shares

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
বাউফল-পটুয়াখালী ও বরিশাল সড়কের বগা ফেরী ঘাটে টোল আদারে নামে চলছে নৈরাজ্য। এই ঘাটে ধার্য্যকৃত টোলের দ্বিগুন বা তিনগুন করে টোল আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত টোল দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইজাদারের লোকজনের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয় যানবাহন চালকদের । বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, ভারী পণ্যবাহী যানবাহন-ট্রাক/কাভার্ডভ্যান ১শ’টাকার স্থলে ২শ’৫০টাকা এবং অনধিক ১৫ যাত্রীবাহী মটরযানে ২০টাকার স্থলে ৪০টাকা, মোটর সাইকেল পারাপারে ৫টাকার স্থলে ২০ টাকা, অটো-রিস্কা, থ্রিহুইলার-১০টাকার ভাড়া ২০-৩০টাকা আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীবাহী বাস-মিনিবাস ৪৫টাকার স্থলে ১শ’২৫ টাকা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই এক্সেল বিশিষ্ট রিজিড ট্রাক/বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর/ট্রেইলর ৫০টাকার স্থলে ১শ’টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। কেন অতিরিক্ত টোল দিচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বরিশালগামী মালবাহী ট্রাক চালক মোশাররফ খান বলেন, ‘ঘাটের লোকজন খারাপ, টোল না দিলে ঝামেলা করে। শারিরীক ভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়। তাই লাঞ্চিত হওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টোল দিতে হয়।’ ট্রলিচালক ইব্রাহীম বলেন, ‘৫০টাকার ভাড়া ১শ’টাকা নেয়। তাদের ধার্য্যকৃত টোল না দিলে গাড়ী আটকে ঝামেলা করে। মূলত: এরুটে চলাচলকারী যানবাহন চালকরা এঘাটের ইজারদারে হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ইজাদার কর্তৃপক্ষের স্থানীয় প্রতিনিধি মো: শাহীন মাষ্টার বলেন, ‘ পটুয়াখালীর ব্যবসায়ি শিবু লাল দাস ২ কোটিরও বেশি টাকা দিয়ে ফেরী ঘাটের ইজারা নিয়েছেন। তার কাছ থেকে দ্বিতীয় এক ব্যক্তি সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়ে তারা ফেরীঘাট পরিচালনা করছেন। অতিরিক্ত টোল আদায় প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিগত বছরের দরের সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া নিচ্ছেন। দ্বিগুন-তিনগুণ আদায় প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘অত বেশী নয়-তবে ক্ষেত্র বিশেষে কিছু বেশী টাকা আদায় করা হচ্ছে।’
বগা ফেরীঘাটের ইজারাদার শিবু লাল দাস বলেন, ‘সরকারি নির্ধারিত টোলের বাইরে অতিরিক্ত টোল আদায়ের কোন সুযোগ নেই। সরকারি রেট চার্ট দেয়া আছে, এর বাইরে টোল আদায় করার খবর আমার জানা নেই।’ ১শ’টাকার ভাড়ার স্থলে ২শ’৫০টাকা আদায় করার প্রশ্নের তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেননি বরং ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
অতিরিক্ত টোল আদায় প্রশ্নে সওজ’র পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। সদ্য ইজারা দেয়া হয়েছে, এমনটি হয়ে থাকলে অবশ্যই তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ একই সময়ে তিনি ঘাটের দায়িত্বে নিয়োজিত এসিকে অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান।