আশুলিয়ায় অনুমোদন ছাড়াই নয় তলা ভবন নির্মাণ, টিকিয়ে রাখতে দৌড়ঝাপ!

প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১
0Shares

আশুলিয়া প্রতিনিধিঃ ঢাকার আশুলিয়ায় আমিন মডেল টাউন সংলগ্ন মারজান টাওয়ার নামের একটি নয় তলা ভবন তৈরী হয়েছে। ইতোমধ্যে বাসিন্দারা কয়েকটি ফ্ল্যাটে বসবাসও শুরু করেছেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো ভবন নির্মানে সাভার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নেই কোনো অনুমোদন!

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে এই মারজান ভিলার ৫২জন মালিকের অন্যতম মোঃ শরাফত আলী জানান, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড থেকে এখনও পর্যন্ত তাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। শুরুর দিকে ইঞ্জিনিয়ার মামুনকে দিয়ে ভবনের ডিজাইন করিয়ে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড থেকে প্ল্যান পাসের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে পরে করোনা এবং বন্যার কারণে অফিস বন্ধ থাকার কারণে হয়তো তিনি বোর্ডে প্ল্যান সাবমিট করতে পারেন নাই। ইতোমধ্যে আমরা কাজ বন্ধ না রেখে ১৪তলা ভবনের নবম তলা পর্যন্ত করে ফেলেছি। পরে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডকে বিষয়টি জানালে তারা ইঞ্জিনিয়ার কালামকে ক্রস-চেক করার দায়িত্ব দেন এবং এজন্য বুয়েটের ড. বারি স্যারকে এবং ঢাকার আরেকটি ফার্মকে দায়িত্ব দেই। তারা ক্রস-চেকের জন্য আবারও ভবন তৈরীর পরে সয়েল টেস্ট করা হচ্ছে। তবে ইঞ্জিনিয়ার মামুন এর গাফিলতির কারণেই ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড থেকে আমাদের ভবনের অনুমোদন হয়নি।
এব্যাপারে মুঠোফোনে বিল্ডিং ডিজাইন এসেন্ট কনসালটেন্ট এর ইঞ্জিনিয়ার মামুন জানান, আসলে এই ভবনের ষ্ট্র‍্যাকচারাল ডিজাইন করে ডাইনামিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনসালটেন্ট ফার্ম এবং পাইলিং এর কাজ করে আল হেরা কলসালটেন্ট। আমরা শুধু ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড থেকে প্ল্যান পাসের দায়িত্ব নেই। কিন্তু ভবন মালিক কর্তৃপক্ষ প্ল্যান পাসের জন্য প্রয়োজনীয় টাকাপয়সা না দেয়াতে আমরা প্ল্যান পাস করাতে পারিনি।

মুঠোফোনে এব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার কালাম জানান, তাকে ক্রস-চেকের দায়িত্ব দেয়া হয় নাই। এই ভবনের সাথে কোনোভাবেই তিনি সম্পৃক্ত নন। আর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে ভবন মালিকেরা প্ল্যান পাসের জন্য সেভাবে উদ্যোগ না নেয়াতেই প্ল্যান পাসের আগেই ভবন তৈরী হয়ে গিয়েছে।

মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে সাভার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সি ই ও) বশিরুল আলম ভুইয়ার নিকট কল করা হলে তিনি বলেন, মারজান টাওয়ার ভবনের অনুমোদন নেই এসংক্রান্ত খবর পেয়ে আমি নিজেই ওখানে গিয়েছিলাম এবং নোটিশ করে এসেছি ভবন কর্তৃপক্ষকে। এব্যাপারে একটা প্রোসিডিউর রয়েছে, পর পর তিনটা নোটিশ করার পর আমরা মামলার দিকে যাবো। ভবনের নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ সহ ওই ভবনে যারা বসবাস করছেন তাদেরকে সরে যাবার জন্য দশ দিনের সময় দিয়ে এসেছি। আমরা বিষয়টি জানতাম না এবং যখন জানতে পেরেছি তখন এ্যাকশনে গিয়েছি।

তবে এরকম একটি বহুতলা ভবন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে রাতারাতি নবম তলা পর্যন্ত তৈরী হয়ে গেলো এবং পরবর্তীতে যেকোনো ধরনের দূর্ঘটনার দায়দায়িত্ব কাদের উপর বর্তাবে সে বিষয়ে প্রশ্ন রেখেছেন এলাকাবাসী।