সাভারে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে সিকিউরিটি কোম্পানির ব্যবসার নামে চলছে প্রতারণা 

প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২১
0Shares
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার:
ঢাকার সাভার উপজেলা, আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর ,সাভার আশুলিয়া,বাইপেল,নবীনগর এসব এলাকা গুলোতে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অবৈধ সিকিউরিটি কোম্পানির রমরমা ব্যবসা।বিভিন্ন দেয়ালে দেয়ালে রাস্তার আনাচেকানাচে অলি গলি যেখানেই চোখ যায় দেখাযায় ছটাকদার লোভনীয় চাকুরির বিজ্ঞাপন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ও করা হচ্ছে বিজ্ঞাপন গুলো পোস্ট ও বুষ্ট।বিজ্ঞাপন দেখে প্রতারিত হচ্ছে শিক্ষিত বেকার যুবকেরা হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের কাছ থেকে কারি কারি টাকা।তাদেরকে বলা হচ্ছে ব্যাংক-বীমা,সিভিল এভিয়েশন, পর্যটন মন্ত্রণালয়,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গণপূর্তমন্ত্রণালয়,মেট্রোরেল,এয়ারপোর্টথার্ড টারমিনাল ।এরকম আরো সরকারি চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে বেকার চাকুরি প্রত্যাশী লোকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা কেও হচ্ছে সর্বোচ্চ হারা।কিছু ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামিরা ভুক্তভোগীদের চাকরি দেয়ার নাম করে টাকা নেয়ার পর বিভিন্ন অফিসের
ঠিকানা দিয়ে পাঠিয়ে দেয়।
ওই সব অফিসে গিয়ে ভুক্তভোগীরা কোনো কাজের সন্ধান না পেয়ে প্রতারকদের কাছে এসে টাকা ফেরত চাইলে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে তাড়িয়ে দেয়।এরকম কিছু ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে উঠে এসেছে কিছু নামধারী সিকিউরিটি কোম্পানির নাম এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে সলিউশন ফোর্স লিমিটেড,এমডি সিকিউরিটি সার্ভিস এন্ড চাইল্ড কেয়ার হোমস লিমিটেড,শিহাব সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড,মেরিন সিকিউরিটি এন্ড লজিস্টিক সার্ভিসেস লিমিটেড,প্রজন্ম ফোর্স লিঃ,মিম ফোর্স লিঃ,গ্রামীণ বাংলা সিকিউরিটি সারভিস লি: স্ট্রং আর এম সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড,ক্যাপটর সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড,সূর্য বিডি লিমিটেড,আরো হরেক নামে সাজানো গোছালো নাম গুলো।এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এ রকম অপকর্ম করেই থেমে নেই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি দেয়ার কথা বলে অফিসে ডেকে এনে জামানত হিসেবে ৩০০০থেকে৫০০০টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে।মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করেই গড়ে উঠেছে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো।বিভিন্ন সময়ে র‍্যাবের অভিযানে উঠে আসে এরকম প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য।চাকরি প্রলোভন দেওয়া এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের সচেতন থাকতে পরামর্শ র‍্যাবের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর।তিনি বলেন, ‘যারা চাকরিতে আসতে চায়, তারা যেন একটু খোঁজ-খবর নেন আসলে ওই প্রতিষ্ঠান আসলেই চাকুরি দিতে পারে কি না। প্রতারক চক্রগুলো খুব স্মার্টলি নিজেদের উপস্থাপন করবে। এখন প্রায় সবার হাতে স্মার্ট ফোন আছে। চাকরিপ্রত্যাশীরা একটু গুগলে সার্চ করতে পারেন ওই সব কোম্পানি সম্পর্কে।’
এ ধরনের প্রতারক চক্র ধরতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পাশাপাশি র‍্যাবের গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে বলে জানান পলাশ কুমার বসু। বলেন, ‘যখনই এ ধরনের প্রতারণা খবর আসছে, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দেয় বা আমাদের গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়, তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত কাজ চলছে। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া এমন একটি বড় চক্র তৈরি হয়ে গেছে। আমরা নজর রাখছি। অভিযান চলমান আছে।চাকরি প্রত্যাশিত মানুষদের আরো সতর্ক হতে হবে এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠান থেকে।