বাউফলে চিকিৎসক নার্স টেকনিশিয়ান ছাড়াই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২১
0Shares

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান ছাড়াই চলছে ৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ১৮টি ডায়াগনোস্টিক সেন্টার। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ ভাবে এসব হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার চললেও রহস্যজনক কারনে এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাহেদা গফুর, স্লোব বাংলাদেশ, সেবা, নিউ হেলথ কেয়ার, লাইফ কেয়ার ও মাজেদা নামের ৬টি হাসপাতাল এবং পৌর শহরের কথামনি, ইসেব, পলি, জাবির, গ্রীণ ল্যাব, কালাইয়া বন্দরে নুহা, কালিশুরী বন্দরে মেডিকেয়ার ও ফেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস এ্যান্ড ল্যাব, বগা বন্দরে আপন ও বগা ডায়াগনোস্টিক, কাছিপাড়া বাজারের ল্যাব এশিয়া ও কাছিপাড়া ডায়াগনোস্টিক, কনকদিয়া প্যাথলজি, নওমালা নগরের হাট বাজারে গ্রামীন কল্যাণ ও নগরের হাট ডায়াগনোস্টিক, নুরাইনপুর নিউ লাইফ কেয়ার, আদাবাড়িয়া নিউ কাশিপুর, তাসিম ও গ্রামীন কল্যাণ ডায়াগনোস্টিক সেন্টার থাকলেও একটিতেও সরকারি নিয়ম নীতিমালা অনুসরণ করা হয়না।

বিধি অনুযায়ি বেসরকারি হাসপাতালের জন্য ১জন সার্জন, ৩ জন এমবিবিএস ও ১জন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক, বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের অনুমোদিত ৬ জন ডিপ্লোমাধারী নার্স, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট, পোস্ট অপারেটিভ রুম, ফায়ার লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদফতরের লাইসেন্স থাকার কথা থাকলেও ৬টি হাসপাতালের কোনটিতে তা নেই। সার্জন ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই সিজার করা হচ্ছে প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে।

এছাড়াও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে একজন ল্যাব টেকনেশিয়ান, একজন এক্সরে টেকনেশিয়ান, একজন প্যাথলোজিস্ট, একজন রিপোর্ট প্রদানকারী চিকিৎসক ও একজন রেডিওগ্রাফার থাকার কথা থাকলেও তা একটিতেও নেই। এসব হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোতে চলছে চরম নৈরাজ্য। কোন জবাবদিহিতা নেই।

তবে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা দাবী করেন, সঠিক নিয়মেরই চলছে তাদের প্রতিষ্ঠান।

এদিকে গত ২২ জুন বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসুতি বিভাগ চালু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মাত্র ২ জন নারীর সিজার করা হয়েছে। অথচ বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য প্রসুতি নারীর সিজার হচ্ছে। নিয়মানুযায়ী প্রতিমাসে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে বেসরকারি হাসপাতালে জম্মমৃত্যুর তথ্য প্রদান করার নিয়ম। কিন্তু বাউফলে একটি বেসরকারি হাসপাতাল কতৃপক্ষ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে তথ্য প্রদান করেন না। প্রতিমাসে কোন বেসরকারি হাসপাতালে কয়টি সন্তান প্রসব হয় তার হিসাব নেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে।

বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সূত্র জানায়, প্রতিনিয়ত সরকারি সেবার জন্য বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলে কতিপয় দালাল বিভ্রান্ত করে প্রসুতি নারীদের সেবা ও হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে নিয়ে যান। বিনিময়ে প্রত্যেক দালালকে ১ হাজার টাকা বকশিশ দেয়া হয়। তাই বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অত্যাধুনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রসুতি নারীরা।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন,‘আমরা বাউফলের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোর তালিকা তৈরি করেছি। বিধি বহির্ভূতভাবে পরিচালিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমাকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অবহিত করেছেন। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।