পটুয়াখালীতে টাকার মালা গলায় দিয়ে বিজয় উল্লাস করেন কানার মনির

প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২১
0Shares

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের পানখালী গ্রামের ইউপি সদস্য নারী ধর্ষনসহ একাধিক মামলার আসামী মোঃ মনির ওরফে কানা মনিরের খুঁটির জোর কোথায়। একাধিক নারী ধর্ষন, প্রতারনা করে অন্যের জমি দখলকারী, অর্থ আত্মসাতকারী, চাঁদাবাজ কানা মনির এলাকায় একের পর এক অপকর্ম, অনৈতিক কর্মকান্ড করেই যাচ্ছে কোন ক্ষমতার বলে। এ সন্ত্রাসীর দাপটে এলাকার মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা বিচার চেয়ে পাচ্ছে না বিচার। সন্ত্রাসী কানা মনিরের হুমকি প্রদানে ভুক্তভোগীরা উল্টো পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, পানখালী গ্রামের আব্দুল সিকদারের ছেলে মোঃ মনির ওরফে কানা মনির ২০১২ সালে মাওঃ আজাহারুল ইসলামের কালারাজা হাট হোসাইনিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার নবম শ্রেনীর পড়ুয়া মেয়ে (ফারজানা) কে অপহরন করে বিবাহ করার প্রলোভন এবং বিভিন্ন তালবাহানা করে পটুয়াখালী শহরে রেখে ভয়ভীতি দেখায়ে একাধিকবার ধর্ষন করে। এ ঘটনায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা (মামলা নং- ৭৭/১২) চলমান আছে। এ ছাড়াও মনির ২০১৩ সালে পানখালী মুহিবুল্লাহ দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রীকে (রোজিনাকে) মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে জোরপূর্বক অপহরন করে নিয়ে ধর্ষন করে বাল্য বিবাহ করে। পরবর্তীতে বাল্য বিবাহ বেআইনি মনে করে রোজিনাকে তালাক দেখায়ে অপ্রাপ্ত রোজিনাকে নিয়ে স্বামী স্ত্রী হিসেবে ঘরসংসার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গলাচিপা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা চলমান আছে। মনিরের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। মামলা নং ৪৩১/০৩। এ ছাড়াও মনিরের বিরুদ্ধে গাছ চুরি, মাছের ঘেরের টাকা আত্নসাৎ, সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে খালেক সিকদারের ছেলে টিটু সিকদারকে বাড়িতে নিয়ে বিবস্ত্র করে অমানবিক নির্যাতন, ভুয়া ওয়ারিশ সার্টিফিকেট তৈরী করে জমি কবলা দলিল স্থানীয় চান মিয়া হাওলাদার ও ছোমেদ হাওলাদার এর মধ্যে কবলা জমি বেচা- কেনায় তাদের অজান্তে মনির তার নিজের নাম গ্রহীতায় অন্তর্ভুক্ত করে জমি জবর দখল এবং তার নিকট আত্মীয় হাফেজা খাতুন থেকে কবলা দলিলে ৪ শতক পরিবর্তে অতিরিক্ত ১২ শতক জমি হাফেজা খাতুনের অজ্ঞাতে দলিল করে জোরপূর্বক দখল করে। মনির সম্প্রতি ইউপি নির্বাচনে ৮ নং ওয়ার্ডে মেম্বর পদে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে নির্বাচনী আচরন লংঘন করে ভোটারদেরকে টাকা দিয়ে মেম্বর নির্বাচিত হয়ে মনিরের সন্ত্রাসীসহ অসামাজিক কার্যকলাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। মনির নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পরদিন টাকার মালা গলায় দিয়ে আনন্দ মিছিল করে উল্লাস করার ঘটনা টক অব দ্যা ভিলেজে পরিনত হয়েছে। এ ব্যাপারে মনির জানান, সমর্থকরা টাকার মালা বানিয়ে গলায় দিয়ে একটু আনন্দ করেছে। এটা ভুল হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষনসহ অন্যান্য অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মনির ফোন বিছিন্ন করে।