কিট ব্যবহারের জন্য সাময়িক সনদ চায় গণস্বাস্থ্য

প্রকাশিত: ৮:৪১ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২০
0Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন পাওয়ার পর দশ দিন কেটে গেলেও এক্সটার্নাল ভ্যালিডেশনের জন্য এখন পর্যন্ত গণস্বাস্থ্য কিটের স্যাম্পল নেয়নি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। ফলে কিটের ব্যবহারিক পরীক্ষা এখনও শুরু হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মতো কিট ব্যবহারের জন্য সাময়িক সনদ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সোমবার (১১ মে) বিকেলে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের গেরিলা কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দার বীর উত্তম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

নানা টানাপোড়েন শেষে গত ৩০ এপ্রিল ওষুধ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিএসএমএমইউ ও আইসিডিডিআরবি-কে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’-এর এক্সটার্নাল ভ্যালিডেশনের জন্য।

এরপর বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেন। সেসব বৈঠকে গণস্বাস্থ্যের পক্ষ থেকে প্রটোকল, প্রয়োজনীয় কাগজ ও আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়। অপরদিকে এক্সটার্নাল ভ্যালিডেশনের জন্য বিএসএমএমইউ’র পক্ষ থেকে একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়।

কিন্তু প্রক্রিয়ায় শুরুর দশ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কিটের স্যাম্পল নেয়নি বিএসএমএমইউ। উপায়ন্ত না দেখে সোমবার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের সব রকম প্রস্তুতি থাকার পর এখন পর্যন্ত কিটের পরীক্ষা শুরু করতে পারিনি। কারণ, বিএসএমএমইউ আমাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত স্যাম্পল নেয়নি। এটা আমাদেরই ব্যর্থতা।’

‘তবে কাউকে আমরা দোষারোপ করব না। বিএসএমএমইউ যে কমিটি গঠন করে দিয়েছে, সে কমিটি চিঠিপত্র রেডি করে ফেলেছে। এখন ভিসির অনুমোদন দরকার। সেই অনুমোদনটা হলেই হয়তো তারা আমাদের কাছ থেকে কিটের স্যাম্পল নেবে। আমাদের কিটও রেডি আছে। তারা চাইলে আধা ঘণ্টার মধ্যে কিট পৌঁছে দিতে পারব’— বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমরাই প্রথম দ্রুত টেস্ট পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলাম। কিন্তু নানা জটিলার কারণে ‘প্রথম আবিষ্কার’ এর সম্মানটুকু আমরা নিতে পারিনি। এরই মধ্যে আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশ র‌্যাপিড টেস্ট পদ্ধতির অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে। তারা সাময়িক অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু করেছে।’

‘আমরাও চাই, আমাদের কিটের সাময়িক সনদ দেওয়া হোক। দেশের অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমরা অন্তত কিছু মানুষের উপকার করার চেষ্টা করি’— বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের কারণে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিডিসি আমাদের কিট নিতে পারছে না। তারা আমাদের কাছে ৮০০ স্যাম্পল চেয়েছিল। সেটা রেডি আছে। তারা যেকোনো সময় এলেই আমরা দিয়ে দিতে পারব।’

বিএসএমএমইউ’র কোনো গাফিলতি আছে কি না?— এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা গাফিলতির কথা বলব না। তবে বিলম্ব হচ্ছে, এটা বলাই যায়। সে কারণেই বলছি, আপাতত আমাদের সাময়িক সনদ দেওয়া হোক। আমরা কাজ শুরু করি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দশ লাখ কিট উৎপদানের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। সরকারের রেজিস্ট্রেশন পেলেই আমরা উৎপাদনে যেতে পারব। জরুরি ভিত্তিতে আমরা একটা কারাখানা স্থাপনের চেষ্টা করছি। প্রয়োজনীয় লোকবল পেলে আগামী দশ দিনের মধ্যেই কারাখানার অবকাঠামো প্রস্তুত করতে পারব।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড.বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে এই কিট উদ্ভাবন করেন একদল বিজ্ঞানী। দলের অন্য গবেষকরা হলেন- ড. ফিরোজ আহমেদ, ড. নিহাদ আদনান, ড. মো. রাইদ জমিরুদ্দিন, ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার।