চট্রগ্রামে চেয়ারম্যানের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী ধানকাটা কর্মসূচি

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২০
0Shares

নিউজ ডেস্ক: মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সবাই ঘরবন্ধি। দেখা দিয়েছে কৃষি শ্রমিক সংকট। ফলে উৎপাদিত ফসল সময়মতো কেটে ঘরে তুলতে পারছিলেন না কৃষকরা। এতে করে হাড় ভাঙা শ্রম দিয়ে ফলানো সোনালী ধান জমিতেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এমন সময়ে কৃষকদের সহায়তায় এগিয়ে এলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী শাহীন। উদ্যোগ নিয়ে গঠন করলেন স্বেচ্ছাসেবী দল। হাতে নেন ধান কাটা কর্মসূচি।

চেয়ারম্যানের আহবানে সাড়া দিয়ে সপ্তাহব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড’র ছাত্র-যুব সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন। গত ৮ মে (শুক্রবার) সকালে কর্মসূচির শেষ দিনেও হাজারো মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে স্বেচ্ছায় এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। ধান কাটার কাজে অংশগ্রহণকারী কেউ আহত হলে তাদের তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে ছিল একাধিক চিকিৎসক টিমও।

ধান কাটা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, চেয়ারম্যান মহোদয়ের আহ্বানে স্বেচ্ছাশ্রমে আমাদের খাদ্য যোগানদাতা মেহনতি কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আর এ কাজে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি।

স্থানীয় রায়পুর গ্রামের কৃষক আব্দুস শুক্কুর বলেন, জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। ফলনও এবার ভালো হয়েছে। ক্ষেতের ধান পাকলেও শ্রমিক না থাকায় কাটতে পারছিলাম না। সকালে জমিতে গিয়ে দেখি কাঁচি হাতে একদল লোক ধান কাটছেন। কাছে গিয়ে দেখি চেয়ারম্যান ধান কাটা তদারকি করছেন। চেয়ারম্যানকে দেখে আমি অবাক হই। আব্দুস শুক্কুরের মত এলাকার অনেক কৃষকই চেয়ারম্যানের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে অভিভূত হয়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার উদ্দিন চৌধুরী শাহীন বলেন, জনপ্রতিনিধির কাজ হল দুঃসময়ে জনগণের পাশে থাকা। এ প্রতিশ্রুতি নিয়েই এলাকার অসহায় কৃষকদের ধান কেটে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা এলাকার সকল সামাজিক সংগঠন, ছাত্র-যুব সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ মিলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ ইউনিয়নের কৃষকদের প্রায় ২শত বিঘা জমির ধান কাটা সম্পন্ন করেছি। এ সময় যেকোনো মানবিক সংকট সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে বদ্ধ পরিকর বলেও জানান তিনি।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান শাহীনের ধান কাটা কর্মসূচি চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগককে সাধুবাদ জানিয়েছেন ফটিকছড়ির এমপি ও তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীসহ বিভিন্ন মহল। চলমান সংকটে প্রতিটি এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এরকম উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসলে কৃষকরা উপকৃত হবে বলে মনে করছেন তারা।

সূত্র: আমাদেরসময়.কম