গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা এবং শিক্ষক বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত 

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০২২
582 Views

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা):

গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেজর হায়দার সভা কক্ষে আজ শনিবার (১৯ নভেম্বর ২২) সকাল ১০টায় ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা এবং শিক্ষক’ শিরোনামে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রাহমান চৌধুরী এবং সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, জনাব নূরুল কবীর, ডা. আব্দুর নূর তুষার, অধ্যাপক তানভীর আহমেদ খান।

মধ্যযুগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপত্তি সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কী রকম হওয়া দরকার তা নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. রাহমান চৌধুরী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল সমস্যা যোগ্য শিক্ষকের অভাব। তিনি আরো বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সবচেয়ে বড় সঙ্কট হচ্ছে পরীক্ষা ব্যবস্থা। সম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল করে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা আমাদের দেশে শিক্ষাব্যবস্থার কোনো অনুষঙ্গ নয়, বরং পরীক্ষাব্যবস্থাই এখানে প্রকৃত শিক্ষাব্যবস্থা। ফলে উচ্চ শিক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে মুখস্থবিদ্যার নামান্তর। শিক্ষকের কাজ হচ্ছে কিছু বর্ণনা করে ছাত্রদের মগজ পুরো করে দেওয়া। শিক্ষক যাকে সত্যিকার জ্ঞান বলে বিবেচনা করছেন তা দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মগজ ভর্তি করাই তাঁর কাজ। তিনি যা শেখাচ্ছেন বা বর্ণনা করছেন তা বাস্তবতা হতে বিচ্ছিন্ন, সমগ্রতার সাথে সম্পর্করহিত। শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদেরকে যান্ত্রিকভাবে মুখস্থ করতে উদ্বুদ্ধ করেন। ফলে শিক্ষা হয়ে ওঠে জমা করার বিষয়, সেখানে ছাত্রছাত্রীরা হচ্ছে জমা রাখার পাত্র। শিক্ষার্থীর জীবনে স্বার্থকতার জন্য প্রয়োজন বিচার ক্ষমতা, উদ্যোগ গ্রহণের সাহস যার কোনোটাই মুখস্থ বিদ্যা থেকে আসে না। ব্যবহারিক জীবনে তাদের যে জ্ঞান দরকার সে সম্বন্ধে বিশেষ কিছু ব্যুৎপত্তি লাভ করা হয় না। ভিন্ন দিকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাভীতির কারণেই পড়াশুনা করার চেয়ে তারা মনে করেন, পরীক্ষা বৈতরণী’ পার হওয়াটাই শিক্ষার মূল কথা।

এব্যাপারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, প্রাচীন কাল থেকেই শাসকগোষ্ঠী জ্ঞান চর্চার বিপরীতে কাজ করেছে। এটার ধারাবাহিকতা এখন পর্যন্ত রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে কাজের পূর্নাঙ্গ স্বাধীনতা এবং শিক্ষকদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাস্ট্রের শাসকশ্রেণীর উপর শিক্ষার মান নির্ভর করছে। তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক জ্ঞান চর্চার কেন্দ্রবিন্দু রয়েছে।

নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, ন্যায্যতা প্রাপ্তির জন্য শিক্ষার প্রয়োজন। সব সময়ই শিক্ষার ক্ষেত্রে একটা স্ববিরোধিতা রয়েছে। তবে মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের চিন্তা করতে হবে কোনটা ন্যায্য। প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হলে সমস্যা সমাধান অবশ্যই সম্ভব।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানভীর আহমেদ খান বলেন, আমরা প্রশ্ন করিনা বলেই মুখস্থ বিদ্যার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। মাইনসেট পজিটিভ করতে না পারলে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।

ডা. আব্দুর নূর তুষার বলেন, এখন প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হতে ভয় পায়। কারণ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। শাসক শ্রেণী সব সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে অথচ শিক্ষার মান উন্নয়ন হচ্ছে না।

সবশেষে সেমিনারের সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের (ট্রাস্টি- গণ বিশ্ববিদ্যালয়) সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারের আলোচনা শেষ হয়।