আশুলিয়ায় আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখল চেষ্টা; বাঁধা প্রদানকালে মারধরের শিকার ২

প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২২
216 Views

সাভার প্রতিনিধিঃ

ঢাকার আশুলিয়ায় পাথালিয়া ইউনিয়ন রহিমপুর কাঞ্চিরটেক এলাকায় মৃত ওবায়দুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বসত-ভিটা জবর-দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বাড়ি মালিকের স্ত্রী সাজেদা বেগমসহ ২ নারী আহত হয়েছেন। পরে ৯৯৯ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন।

বুধবার সকালের দিকে এই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারিরা বাড়ির আশেপাশের ফলজ ও বনজ গাছপালা কেটে ফেলে। এঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওয়ারিশসূত্রে ঢাকা জেলার সাভার সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস হালে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস আশুলিয়ার পাথালিয়া মৌজাস্থিত সি.এস খতিয়ান নং-১১২, এস.এ খতিয়ান নং-১৫৪, আর.এস খতিয়ান নং-১৭০, সিএস ও এসএ দাগ নং-১৪০, আরএস দাগ নং-২০২, বিআরএস খতিয়ান নং-৩৭৫, দাগ নং- ৯৯১, সম্পত্তি ২১.৯৬ শতাংশ এবং বিআরএস খতিয়ান নং-৭৩৩, দাগ নং-৯৯০, সম্পত্তি ০৩ শতাংশ একুনে ২টি বিআরএস দাগে ২১.৯৬+৩=২৪.৯৬ শতাংশ সম্পত্তি ইহার কাতে ২০.৪০ শতাংশ সম্পত্তি নালিশী সম্পত্তি বটে । যাহার চৌহদ্দি–উত্তরে সোনা মিয়া, দক্ষিণে–সরকারী রাস্তা, পূর্বে-আরিফুর রহমান গং, পশ্চিমে- ফজল গং। উক্ত সম্পত্তিতে পৈত্রিকসুত্রে ওয়ারিশ হিসাবে মৃত ওবায়দুর রহমান বসতবাড়ি নির্মাণ করে শান্তিতে বসবাস করেন। ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুর পর তার ৩ ছেলে, ৩ মেয়ে ও তার স্ত্রী ওয়ারিশ হিসাবে উক্ত জমিতে বিগত ৪০ বছর যাবৎ বসবাস করে আসছে। কিন্তুু একই এলাকার মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪৫) ওই জমিটি জোরপূর্বক জবর দখলের চেষ্টা করছেন ।

এই জমি দখল চেষ্টার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও কোন প্রকার সমাধান না হওয়ায় বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা (১৮৫/২০২১) দায়ের করা হয় । পরবর্তীতে বিবাদীগন সাভার সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা (১৮৯/২০২২) দায়ের করেন, যাহার বর্তমান দেওয়ানী মোকদ্দমা নং- ৪৮০/২০২২ তে বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের এ স্থিতাদেশ অমান্য করে শহিদুল ইসলাম গং জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

এবিষয়ে স্থানীয় মোঃ রাজ্জাক ও আবুল হোসেন জানান, ওবায়দুর প্রায় ৪০বছর আগে পৈত্রিকসুত্রে পাওয়া এই জমিতে বসতবাড়ি স্থাপন করে বসবাস শুরু করে। ওবায়দুরের মৃত্যুর পর ওয়ারিশ হিসেবে তার স্ত্রী সাজেদা ও তার ছেলে-মেয়েরা এখানে ভোগ-দখল করে আসছে। সাজেদার ছেলেরা চাকুরির সুবাদে বাড়িতে না থাকায় শহিদুল গংরা অন্যায়ভাবে তাদের জমি দখল করার চেষ্টা করছে। তফসিল বর্নিত সম্পত্তিতে আদালতের স্থিতাবস্তার আদেশ থাকাকালিন শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সাভার সার্কেল এসপি ও আশুলিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলাও রয়েছে কিন্তু তারা জোরপূর্বক ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে জমিটি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

এ বিষয়ে পাথালিয়া ইউপির সাবেক মেম্বার মোঃ আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন , এখানে ২২শতক জমিটি ওয়রিশ সুত্রে ওবায়দুরের ছেলেমেয়েরা ভোগদখল করে আসছে অথচ শহিদুল অন্যায়ভাবে তাদের জমি দখল করার চেষ্টায় তাদেরকে হামলা করে আহত করেছে বিষয়টি দুঃখজনক। এছাড়া আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, আদালতের সমাধান শেষ না হলে এই জমি ক্রয়-বিক্রয় বা দখল করা যাবেনা।

হামলার শিকার সাজেদা বেগম জানান, বুধবার সকাল অনুমান ১০টার দিকে শহিদুলের নেতৃত্বে মোঃ আওয়াল হোসেন, আলহাজ, আমিনুল ইসলাম, আলাউদ্দিন আলা ও মিজানুর রহমান মিজুসহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিতভাবে আমাদের বাড়ির বনজ , ফলজ গাছপালা কেটা শুরু করে। এসময় আমরা বাঁধা দিতে গেলে আওয়াল আমার গলায় দা ধরে আর আমিনুল আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। তখন আমার মেয়ে ঠেকাতে গেলে তাকেও মেরে আহত করে তারা। এরপরে কোন উপায় না পেয়ে আমরা ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চাই। এসময় শহিদুল আমাদেরকে জমি ছেড়ে যেতে বলে অন্যথায় হত্যা করবে বলে হুমকিও দেয়।

অন্যদিকে শহিদুল বলেন, আমার জায়গা আমি দখল করতে গেছি। আর পোলাপানে কিছু আগাছা গাছপালা কেটে ফেলেছে বলেও জানায়।

এ বিষয়ে আশুলিয় থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত রায় বলেন, ৯৯৯ এ জমি দখল ও হামলার বিষয়ে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছি। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।