প্রকাশিত: ১১:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০২৩
78 Views

কাল‌কি‌ন‌ি(মাদারীপুর)প্র‌তি‌নি‌ধিঃ

মাদারীপুরের কালকিনি থানার ঐতিহ্যবাহী সমিতির হাট আবা খালেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত স্কুলটি লেখাপড়াসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে একের পর এক বয়ে এনেছে সাফল্য। প্রতি বছর এসএসসি’র ফলাফল ছিলো ঈর্ষণীয়।

তবে গত কয়েক বছর ধরে বদলে যেতে থাকে চিত্র। বর্তমানে স্কুলটির ফলাফলের বেহাল দশায় হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্য।

তবে কী কারণে এ বিপর্যয় সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এলাকার সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল হাচানাত পলিনের দুর্নীতির কথা।

তার বিরুদ্ধে গত দুই মেয়াদে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে স্কুলের সকল নিয়োগে তিনি আর্থিক লেনদেন করেছেন।

নিয়োগ দিয়েছেন আপন ভাইকেও। সভাপতির প্রভাব খাটিয়ে তার ভাই আজাদ সরদার স্কুলে আসে না বললেই চলে। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়; আজাদ সরদার মাসে এক থেকে দুই দিন ক্লাস নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান; আজাদ সরদার স্কুলে নিয়মিত আসেন না। এমনকি দু-তিন দিন পর পর বেলা ১১টা ১২টার দিকে এসে হাজিরা খাতায় সই করে চলে যান।

আজাদ সরদার বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান।

কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন আবার একটি মহল পুনরায় আবুল হাচানাত পলিন কে সভাপতি হিসাবে নিযুক্ত করার পায়তারা করছেন। তবে এর ঘোর বিরোধিতা করেছেন এলাকার শিক্ষিত সমাজ ও অ‌ভিভাবকগণ।

এলাকার শিক্ষিত ব্যক্তি ও অভিভাবকরা বলছেন; স্কুলের লেখা-পড়ার মান ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সৎ ও যোগ্য লোকের কোনো বিকল্প নেই। স্কুল কমিটির স্কুল পরিচালনার জন্য উচ্চ শিক্ষিত ও প্রশাসনিক কাজ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা থাকা দরকার। স্কুলের শিক্ষকদের দিক নির্দেশনা দিতে দরকার যথাযথ যোগ্যতা । একাডেমিক জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োজন যাতে মাঝে মাঝে তিনি ছাত্রদেরও দিকনির্দেশনা দিত পারেন। প্রশাসনিক কাজের সঠিক নজরদারি করতে পারেন। এসব কাজে যথেষ্ট যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা উভয় থাকা দরকার। এলাকার সম্মা‌নিত লোক ও শিক্ষার্থী‌দের অ‌ভিভাবকরা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে তারা মেজর (অবঃ) রেজাউল করিমকে যোগ্য বলে মনে করছেন। তাদের ধারনা সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে রেজাউল করিম দায়িত্ব নিলে স্কু‌লের অবকাঠা‌মো উন্নয়ন ও ‌ছে‌লে- মেয়ে‌দের ফলাফ‌লে পুরনো ঐতিহ্য ফি‌রে পা‌বে।