বাঘ বন্দি চিড়িয়াখানায় !

প্রকাশিত: ৮:৩২ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০২০
0Shares

(লেখক- মো. মামুন মোল্লা)

মানুষ স্বভাবতই আনন্দ প্রিয়! বিষয়বস্তু যাই হোক সেখানে আনন্দ থাকলেই মানুষ আর কিছুই প্রয়োজন মনে করেনা এবং জানতেও চায় না তার পিছনের রহস্য বা কারণ।

বাংলাদেশ বৈচিত্র্যময় একটি দেশ এখানে রয়েছে নানা প্রজাতির জীবজন্তু, তারই মধ্যে বিরাজমান একটি প্রজাতি “বাঘ” যার লোম থেকে শুরু করে পাঁয়ের নখ পর্যন্তও মূল্যবান। এই বন্যপ্রজাতিটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে নিতে হবে ব্যাপক ব্যবস্থা, দিতে হবে বসবাস যোগ্য স্থান এবং খাবার নচেৎ হারিয়ে যাবে এই মহামূল্যবান প্রাণীটি। তাই যদি হয়! তাহলে দুধের স্বাদ মেটাতে হবে ঘোঁলে! অথবা বাঘের চামড়া পড়াতে হবে বিড়ালের গলে!

বাঘ‘কে আমরা বনের রাজা হিসেবে জানি ও মানি, তবে কতটুকু মানি সেটা প্রতিপাদ্য বিষয় নয়। যে বাঘের গর্জন শুনলে মানুষ ভঁয়ে কেঁপে উঠতো অথচ এখন সেই বাঘের শরীরে ঢিল ছোঁড়তে দ্বিধা করেনা সামান্য একটি শিশুও! যা আমরা চিড়িয়াখানায় স্বচারাচর সেটাই দেখে থাকি । অথচ এই বন্যপ্রাণীটির বিচারণ (বন বা পাহাড়) ভূমির আশে-পাশে চলাফেরা করার মত সাহস রাখেনা কোন বলীয়ান। আবার বাঘ’কে নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্যও রয়েছে লোহার তৈরি শিকল অন্য দিকে এই বন্যপ্রাণীটিকেও টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে রয়েছে নামমাত্র সংরক্ষণ আইন । কৌতহলী বা বেপরোয়া বাঘটি যখন লোহার শিকল ছিঁড়ে  বা খাঁচা ভেঙ্গে লোকালয়ে প্রবেশ করে এবং আঘাঁত করে ঢিল ছোঁড়া শিশুদের উপর ঠিক তখনই একটি মারাত্নক দূর্ঘনার সম্ভাবনা বিরাজ করে। দূর্ঘটনা ঘটলেই দোষ গিয়ে পরে বাঘের গায়ে! গুণতে হয় বড় ধরনের মাশুল । কারণ শিশু গুলি সমাজের বিত্তবানদেরই কারোনা কারো সন্তান, হতে পারে তারা পালক অথবা ঔরসজাত।

যাইহোক, চলুন মূল কথায় যাওয়া যাক- কথায় কথায় সাংবাদিক বা সাংবাদিকদেরকে বলা হয় জাতির বিবেক, দেওয়া হয় অজস্র সম্মান, যা খেয়ে সে এবং তার পরিবার বেঁচে থাকে আবার এই সু-স্বাদু খাবার হজম করার জন্য ঔষুধ হিসেবে থাকে উত্তম-মাধ্যম(নির্যাতন) যা সাদরে মাঝে মধ্যেই গ্রহন করতে হয়। হতে পারে সেটা কাক্সিখত বা অনাকাক্সিখত দু-ভাবেই। ঔষুধ প্রদানকারী ডাক্টারগণ (রুপক অর্থে) অর্থ্যাৎ নির্যাতনকারী শিশু বা মানুষ আমাদেরই অতি আপনজন তারা অন্য কেউ নয়। নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আঙুল তোলার অধিকার নেই সংবাদিকদের কারণ তারাতো এখন চিড়িয়াখানার খাঁচাতে বন্দি বাঘের অনুরুপ। আবার ভুল করে যদি কেউ প্রতিবাদের আবেদন জানায় তাহলে বলাই বাহল্য গুণতে হবে তারিখের পর তারিখ। তাই সব সময় তাদেরকে দেখতে হয় ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে কারণ ক্ষমা হলো পরম ধর্ম।

এই পেক্ষাপটে বলা যেতে পারে, সংবাদিকগণ এখন চিড়িয়ানার বাঘের সমতুল্য কারণ খাঁচায় বন্দি বাঘটি গর্জন করেও যেমন নিজেকে রক্ষা করতে পারেনা এবং খেতে পারেনা নিজের পছন্দনীয় কোন খাবার। মাঝে মধ্যেই খেতে হয় শিশুদের ছোঁড়া ঢিল। বিচারক বিচার করতে চাইলেও পারবেনা কারণ তিনি বন্দি ২০ টাকার টিকিটের কাছে। তবে প্রতিশ্রুতি প্রদানে তাদের কোন প্রকার কার্পন্যতা নেই বললেই চলে।

একজন সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক জিবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে যাচ্ছে অবিরাম। বিনিময়ে পাচ্ছে “বিবেক” নামক উপাধি যা দিয়ে সংসার তো দূরের কথা সংবাদকর্মীটির এক বারের খাবারও জোটেনা। অথচ একটা সময়ে রাস্ট্রীয় সকল অনুষ্ঠানে সংবাদকর্মীগণ(সাংবাদিক)অধিষ্ঠিত থাকতেন বিশেষণ বা বিশেষ্য হিসেবে। যে হাত বা যাদেরকে বিভিন্ন প্রকার কর্মকান্ডের জন্য দেওয়া হতো শুভেচ্ছা ও নানা ধরনের সম্মানি অথচ আজ এই লেখনি হাত বা হাতের মালিকগণ উল্টো ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকে সম্মান প্রদর্শন করার জন্য। তা না হলে টিকেট বিক্রি কমে যাবে, কমে যাবে শিশুদের আনন্দ! এবং সেই সাথে কমে যাবে অর্থের যোগান।এতে একদিন হয় চিড়িয়া ভরবে না হয় বাঘ শূন্য হবে। যাইহোক সাংবাদিকদের বাহিরে না দেখে ভেতরটা দেখার চেষ্টা করুন। পোশাক নয় বরং পাতিলের খবর নিন! এই দূর্দশা থেকে উত্তরণের একামাত্র ভরসা জননেত্রী শেখ হাসিনা।