৬৫ দিনে করোনা প্রাদুর্ভাব থেকে উত্তরণ করলো থাইল্যান্ড!

প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০
0Shares

নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের অনেক দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার দুই মাসের মাথায়ও এ রোগটির বাড়বাড়ন্ত অবস্থা। দক্ষিণ এশিয়ার জনবহুল তিনটি দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অথচ এ দেশগুলোর প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে মাত্র ৬৫ দিনের মধ্যে রোগটি নির্মূল হয়েছে।

থাইল্যান্ডে প্রথম করোনাভাইরাস ধরা পড়ে ৯ মার্চ। এরপর মার্চের শেষ সপ্তাহে দেশটিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত করা হয়। এপ্রিল মাস জুড়ে এই সংখ্যা ওঠানামা করেছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল খুব কম। একশ’র বেশি রোগী ধরা পড়েছে শুধু একদিন। গত দু’দিনে থাইল্যান্ডে কোনো নতুন রোগী ধরা পড়েনি। তবে থাইল্যান্ডে ১০ দিন হলো কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হয়েছে। সীমিত সংখ্যক মানুষের প্রবেশাধিকার দিয়ে রেস্তোরাঁ ও পার্ক খোলা হয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সার্বক্ষণিক হিসাব রাখা ওয়ার্ল্ডওমিটারের হিসাবে গতকাল বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত প্রাণঘাতী এ রোগে বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি লোক। এর মধ্যে দুই লাখ ৯৪ হাজার ৪৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৬ লাখ ২৩ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়েছেন।

লকডাউন শিগগিরই তুলে নিলে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে নভেল করোনাভাইরাস আরও ছড়িয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফুচি। অর্থনীতি ফের সচলের ক্ষেত্রে ফেডারেল গাইডলাইন মানা না হলে ভাইরাসটির প্রকোপ বাড়তে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। করোনা সংকট সামাল দিতে ব্যর্থতার কারণে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন কমেছে। তিনি এখন তার ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের থেকে ৮ ভাগ পিছিয়ে আছেন।

করোনভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা দৈনিক বৃদ্ধির সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে ব্রাজিলে। মঙ্গলবার সেখানে ৮৮১টি নতুন মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এতে ব্রাজিলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১২ হাজার ৪৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থলে থাকা দেশটি কভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বের ষষ্ঠ শীর্ষস্থানীয় দেশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রাজিলে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৭৮ হাজার ২১৪। মঙ্গলবার সেখানে নতুন করে আরও ৯ হাজার জনের করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে ঈদেও কারফিউ জারি থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি কভিড-১৯ রোগী সৌদি আরবে। প্রায় ৪৩ হাজার করোনা রোগী সেখানে এবং ২৬৪ জন মারা গেছেন।

চীনের জিলিন শহরে স্থানীয়ভাবে করোনা সংক্রমণ ঘটার পর সেখানে আংশিক লকডাউন জারি করা হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, করোনাভাইরাসের কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দারুণভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় আগামী ছয়মাস বিশ্বে প্রতিরোধযোগ্য অসুখে প্রতিদিন ছয় হাজার শিশু মারা যেতে পারে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও আলজাজিরা