২য় অধ্যায় টেইলর হিরোফা!

প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০
0Shares

নিউজ ডেস্ক:  মহিলার নাম হিরোফা। বয়স প্রায় ৪০। পেশায় ছিলো টেইলর। স্বামী ও দুই সন্তান সহ ভালই চলছিল তার জীবন। একদিন কিছু টাকা ঋণ প্রয়োজন হয় তার। পরিচয় হয় মানিকের সাথে। অন্য পেশার পাশাপাশি সুদে অর্থ বিনিয়োগ করে মানিক। হিরোফাকে টাকা দেয় সে। প্রয়োজন শেষে উচ্চসুদ সহ মানিকের ঋণ পরিশোধ করে হিরোফা।DUB

এই পরিচয়ের সুবাদে হিরোফার মাধ্যমে বিভিন্ন মহিলাদের ঋণ দিতো মানিক। ভালো লাভ দেখে হিরোফাও এই ব্যবসায়ে আগ্রহী হয়। বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে অর্থ ঋণ নিয়ে সুদে বিনিয়োগ করে সে।এভাবেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো হয় । উকিল বাবা মেয়ের সম্পর্ক হয় তাদের মধ্যে।

কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় সমস্যা। কোন ঋন গ্রহীতা ঋন পরিশোধে ব্যর্থ হলে হিরোফাকে চাপ দেয় মানিক।ঋন পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিভিন্ন সময় ব্ল্যাংক চেক নেয় মানিক। ব্যাংক ও এনজিওর ঋনও বাড়তে থাকে । আসতে থাকে ব্যাংকের নোটিশ। মানিকের কাছ থেকে ঋন নিয়ে কিছু কিছু ব্যাংক লোন পরিশোধ করে সে। এভাবেই মানিকের উপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়।

একদিন মানিক তার অসুস্থতার কারনে চিকিৎসার জন্য তার সাথে ময়মনসিংহ যেতে বলে হিরোফাকে ।মানিক উকিল বাবা, তাই সরল বিশ্বাসেই যেতে রাজি হয়। ডাক্তার এর এপোয়েনমেন্ট একটু বিলম্ব হওয়ায় আশ্রয় নেয় হোটেলে। মানিক হঠাৎ তার রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়।বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেওয়া শুরু করে।

তার সকল ঋন পরিশোধের ও বাড়ি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সে।পরিস্থিতির শিকার হিরোফার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে মানিক। এরপর প্রতিনিয়ত হিরোফাকে ব্যবহার করত মানিক। হিরোফার ঋন তো পরিশোধ করতোই না বরং নিজের প্রভাব খাটিয়ে অন্য এনজিও আর ব্যাংক থেকে ঋন নিতেও বাধা দিতো সে। হিরোফাকে পুতুলের মত ব্যবহার করা শুরু করে সে।

এমনকি মানিককে বাবার পরিচয় দিয়ে পাসপোর্টও করে। চিকিৎসার নামে ভারত গিয়েও তারা একই সাথে থাকে। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ করে বিয়ের প্রস্তাব ও দেয় মানিক। হিরোফা রাজি না হওয়ায় ব্ল্যাংক চেক দিয়ে মামলার ও ভয় দেখায়।অনেককে বিষয়টি জানালেও কেও সমাধান দিতে আরে না। উপায় না পেয়ে তার রাস্তা থেকে মানিককে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে সে। স্থানীও কিছু লোক কে টাকা দিয়েও কোন কাজ হয় না।

অবশেষে তার বাবাকে বিষয়টি জানায় হিরোফা। টাকার বিনিময়ে হলেও কিছু একটা করতে বলে সে। হিরোফার বাবা আনোয়ার একই গ্রামের রেজাউলের সাথে ৩০০০০ টাকা চুক্তি করে। ফেব্রুয়ারী মাসের ১১ তারিখ পরিকল্পনা অনুযায়ী ফিরোফা ও তার স্বামী লিটন প্রথমে তার বাবা আনোয়ারের বাড়ি যায়। আনোয়ারের অসুস্থতার কথা বলে মানিককে সেখানে ডাকে হিরোফা। মানিক যাওয়ার পর রেজাউল ঐ বাড়ী যায়।

সবাই একসাথে নাস্তা করার পর কথা বলতে বলতে হটাত সবাই মানিকের উপড় ঝাপিয়ে পড়ে। প্রথমে তাকে গামছা দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। তারপর লাশ টেনেনিয়ে যায় বাথরুমের ট্যাংকির কাছে। সেখানে ছুড়ি দিয়ে গলা কেটে ট্যাংকিতে ফেলে দেয়।

এর প্রায় ৩ দিন পর আনোয়ার হোসেন যখন বাথরুমে যায় সেখানে প্রচুর গন্ধ পায়। তখন রেজাউলকে নিয়ে গভীর রাতে ট্যাংকি থেকে লাশ উঠিয়ে পাশের একটি গর্তে মাটি চাপা দিয়ে চলে যায়।

এরমধ্যে ঘটনার পর হিরোফা তার পরিবার সহ কিছুদিন তার ভাই সোহেলের বাড়ি থাকে ও তার পর ঠাকুরগাও চলে যায়। মানিকের মোবাইল ব্যবহার করে মানিকের ছেলে মিলনকে টাকা চেয়ে ও মামলা উঠানোর হুমকি দিয়ে মেসেজ দেয় হিরোফা। এদিকে বাবাকে না পেয়ে থানায় সাধারন ডায়েরী করে মানিকের ছেলে মিলন।

প্রায় ১৫ দিন পর গর্ত থেকে শিয়াল লাশ টি একটু উঠিয়ে ফেললে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আনোয়ার দ্রুত আবারো তার সহযোগীদের নিয়ে গভীর রাতে গর্তথেকে লাশটি উঠিয়ে পলিথিনে মুড়িয়ে পাশের ডোবায় কাদায় চাপা দিয়ে রাখে। পরেরদিন পাশের বাড়ির এক মহিলা গরুকে গোছল করাতে গিয়ে লাশটি ভেসে উঠে।

তখন পুলিশ এসে লাশটিকে হাত পা ও মাথা বিহীন উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। নিখোজ জিডির ভিত্তিতে পুলিশ মানিকের ছেলে মিলনকেও লাশটি দেখতে পাঠায় কিন্তু লাশটি অনেক বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ছেলে তার বাবাকে চিন্তে পারে না।

এরপর পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান নিখোজ ডায়েরীর ঘটনা তদন্তে নামেন। অনেক লোকের সাথে মানিকের খারাপ সম্পর্ক থাকায় সন্দেহভাজন লোকের সংখ্যাও বেশী। সবকিছু বিশ্লেষন করে হিরোফাকে টার্গেট করেন তিনি। হিরোফা ও মানিক কোথাও গোপনে সংসার করছে বলেও ধারনা করেন অনেকে। অনেক খোজাখুজির পর হিরোফার ভাই সোহেলের খবর পাওয়া যায়।

সোহেলের কথা মত প্রথমে পঞ্চগড় ও পরে ঠাকুরগাও অভিযান চালিয়ে হিরোফাকে আটক করে পুলিশ।জিজ্ঞাসাবাদে সে মানিককে হত্যার দায় স্বীকার করে। কিন্তু সে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের রক্ষা করতে প্রথমে অন্যলোকদের ও পরে শুধু নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা বলে তদন্তকে অন্য দিকে নিয়ে যায়।কিন্তু পুলিশ বিভিন্ন কৌশলে একেরপর এক প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে এবং একাধিক অপারেশন চালিয়ে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সকল আসামী পুলিশের কাছে ঘটনা স্বীকার করে।

পরবর্তীতে মানিকের ছেলে মিলন থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্তাধীন আছে । আরো তথ্য উদ্ঘাটন এবং আসামী গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।

কাহিনির বেশির ভাগই আসামির বক্তব্য থেকে নেওয়া। যে সকল অফিসার কাজ করেছেন
১। মোঃ মনিরুজ্জামান, ইন্সপেক্টর (তদন্ত), শ্রীপুর থানা।
২। এস আই আশরাফুল্লাহ
৩। এস আই রাজীব কুমার সাহা।