মোংলা বন্দরকে ১০ নাম্বার মহাবিপদ সংকেত, আজ বুধবার বিকাল বা সন্ধায় আঘাত হানতে পারে!

প্রকাশিত: ৯:১১ পূর্বাহ্ণ, মে ২০, ২০২০
0Shares

শরিফুল ইসলাম, বাগেরহাটঃ

বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’এর প্রভাবে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর ও তৎসংলগ্ন সুন্দরবনের নদ নদী খুবই উত্তাল রয়েছে। এজন্য আবহাওয়া অধিদফতর আজ ২০ মে বুধবার সকালে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মোংলা বন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলের আশপাশের এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টার পর হালকা থেকে মাঝারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

এদিকে আজ ২০ মে বুধবার বিকেল বা রাতে বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়টি মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন উপকূলের উপর দিয়ে সুপার সাইক্লোন রুপ নিয়ে অতিক্রম করতে পারে বলেও জানায় আবহাওয়া অফিস। সাগর প্রচন্ড উত্তল রয়েছে এবং সেখানকার সুন্দরবনের জেলেরা নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানায় র‌্যাব ও দুবলা ফিসারম্যান গ্র“পের সদস্যরা।

অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’র প্রভাবে মোংলা সমুদ্র বন্দরে বিশেষ সতর্কতা এ্যালার্ট-৩ জারি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে খোলা হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষের তিনটি কন্ট্রোল রুম। বন্দরে এই মুহূর্তে মেশিনারি, ক্লিংকার, সার, জিপসাম, পাথর, সিরামিক ও কয়লাসহ মোট ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজের পণ্য খালাস-বোঝাইয়ের কাজ বন্ধ রেখেছে বলে জানায় বন্দর ব্যাবসায়ীরা। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন মোবাইল ফোনে জানান, এ মুহূর্তে বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে কন্ট্রোল রুম খোলাসহ বন্দরের সকল নৌযান ও স্থাপনায় সতর্কতা জারী করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’র পর্যবেক্ষণে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ পৃথক কন্ট্রোল রুম খুলেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাহাত মান্নান বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপজেলার সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুজ্জামান ও সিপিপি’র উপজেলা সহকারী পরিচালক মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ মিলে এ উপজেলার স্কুলসহ মোট ১০৩টি সাইক্লোন শেল্টার দুর্গতদের জন্য প্রস্তুত এবং দুর্যোগের পূর্বে, চলাকালীন ও পরে ৯৯০ জন সিপিপি স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে লোকজনকে সচেতন, উদ্ধার ও নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন।

নৌ-বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে ৭টি জাহাজ ও ৩০টি ছোট স্ট্রিট বোট প্রস্তুত রেখেছে। যাতে জরুরি সময় এ নৌযানগুলো কাজে লাগানো যায়।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সকল বন বিভাগের অফিস সমূহের বন রক্ষীদের নিরাপদে থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের ৪০টি নৌযান দুর্গতদের উদ্ধার ও সহায়তার কাজে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।