ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর প্রভাবে মোংলায় সাড়ে ৬শো ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ ১৫শো মানুষকে দূর্গত ঘোষণা

প্রকাশিত: ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, মে ২১, ২০২০
0Shares

শরিফুল ইসলাম, বাগেরহাট প্রতিনিধি: অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর প্রভাবে ২০ মে বুধবার রাতে মোংলায় জ্বলোচ্ছাস এবং ধমকা হাওয়ায় দশ গ্রাম প্লাবিত, ডুবে গেছে দুই হাজার চিংড়ি ঘের, সাড়ে ৬শো ঘর-বাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ এবং ১৫শো মানুষকে দূর্গত ঘোষণা।

মোংলার কানাইনগর, দক্ষিণ কাইনমারি, কলাতলা, আমতলা, কেয়াবুনিয়া, সিন্দুরতলা, কোলাবাড়ী, জয়মনি, শেলাবুনিয়া, বিদ্যারবাহন, মৈদাড়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থরা জানান গত বুধবার বিকেল থেকে সারারাত সাইক্লোন শেল্টারে তারা অবস্থান করে। সকাল বেলা বাড়ীতে এসে দ্যাখে জোয়ারের পানিতে ঘর-বাড়ীসহ মালামাল ভেসে গেছে এবং প্রবল ঝড়ে অনেকের ঘর-বাড়ী সম্পূর্ণ এবং আংশিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।

এছাড়া সুন্দরবনের অভ্যন্তরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মোংলা উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ রাহাত মান্নান জানান ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর প্রভাবে জ্বলোচ্ছাসে পশুর নদীর তীরবর্তী গ্রামসহ মোংলা উপজেলায় সবমিলিয়ে সাড়ে ৬শো ঘরবাড়ী সম্পূর্ণ এবং আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ইটের সোলিং রাস্তাও অনেক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ জেড এম তৌহিদুর রহমান বলেন চিংড়ি অধ্যুষিত মোংলা দুই সহস্রাধিক চিংড়ি ঘের সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। এর ফলে চিংড়ি চাষীরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

অন্যদিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বেশ কয়েক জায়গায় বন বিভাগের জেটি এবং ঘর-বাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সুন্দরবনের ভেতরে মিষ্টি পানির পুকুর প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বনপ্রহরীদের জব্দকৃত কাঠ জোয়ারের তেড়ে ভেসে গেছে। অল্প কিছু বৃক্ষরাজির ক্ষতি হয়েছে। তবে বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতির কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া এটি ট্যুরিস্ট লঞ্চ এবং ক্লিংকারবাহী কার্গোডুবির খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মোংলায় প্রাণহানীর কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি।