তাড়াশে শ্মশান ও কবরস্থানের সীমনা নিয়ে সংঘর্ষ

প্রকাশিত: ১০:০৫ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০২০
0Shares

মহসীন আলী, তাড়াশ:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর দক্ষিণ জোড়পুকুর এলাকার একটি শ্মশানের সীমানা নিয়ে বিতর্কে হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সংঘর্ষ হওয়ায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে উভয় পক্ষ তাড়াশ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা ওই শ্মশানে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে দুর্বৃত্তরা শনিবার রাতে তা ভেঙ্গে ফেলে। এ ঘটনায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা খ্রিস্টান সম্প্রায়ের লোকদের দায়ী করেছেন।

জানা যায়, মাধাই নগর এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-তাত্তি¡ক জনগোষ্ঠি উরাঁও ও মাহাতো সম্প্রদায়ের লোকজনের রয়েছে বসবাস। জোড়পুকুর নামক স্থানে রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের শবদাহ করার রেকর্ডভূক্ত একটি মহাশ্মশান। এর সংলগ্ন রয়েছে সরকারি কিছু খাস সম্পত্তি।

দু‘দশক আগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির কয়েকটি পরিবার খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন। ক্রমান্বয়ে তাদের পরিবার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এবং একই সংস্কৃতি ধারণ করা উভয় ধর্মাবলম্বী আপোষে শ্মশানের পাশে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মৃত: ব্যক্তিকে সমাহিত করার জন্য কবরস্থানের জায়গা করে দেয়।
সেই থেকে উভয় ধর্মাবলম্বী পাশাপাশি নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিতে মৃতদেহ সৎকার করে থাকেন।

গত ২৭ এপ্রিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শ্মশানের পাকা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা বাঁধা দেয়। এ নিয়ে এক সংর্ঘষে ওই দিন উভয় পক্ষের মহিলা সহ ১০ জন আহত হয়।

এ নিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয়পক্ষের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলেন।
এ সময় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকের সভাপতিত্বে বৈঠক আহবান করা হয়। এবং ঘটনাটি শান্তিপূর্ণ ভাবে মিমাংসাও হয়ে যায়।

মিলন কুজুর অভিযোগ করে বলেন,গত ২৩ মে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা পাকা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে।

এ ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অর্জুন সাউর (২৫), সুবাস সাউর (২৫), সুনীল উরাঁও (৪৫) ও সঞ্জয় উরাঁও (২৬) আহত হয়। তাদের কে চিকিৎসা দিতে তাড়াশ স্বাস্থ্য কমপ্লকেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পাকা প্রাচীর নির্মাণ অব্যাহত রাখলে শনিবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তা ভেঙ্গে দেয়। এ ঘটনায় হিন্দুরা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন কে দায়ি করে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতা ধীরেন্দ্র নাথ মাস্টার অভিযোগ করে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের কতিপয় উশৃক্সখল যুবক উস্কানী দিয়ে এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। এলাকার উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে শান্তির পরিবেশ তারা বিনষ্ট করছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা প্রভাষক হিতেন্দ্র নাথ বলেন, খ্রিস্টানরা পরিকল্পিত ভাবে তাদের উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাঁধা সৃষ্টি করছে।
তাড়াশ থানার অফিসার-ইন-চার্জ(ওসি) মাহবুবুল আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষ কে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। ঈদের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।