মাদারীপুরে কোনোভাবেই থামছে না অবৈধপথে বিদেশযাত্রা

প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০
0Shares

নিউজ ডেস্ক:মাদারীপুরে কোনোভাবেই থামছে না অবৈধপথে বিদেশযাত্রা। বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায় দালালচক্র। সাজা না হওয়ায় দালালচক্র বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করে নাগরিক সমাজ।

পুলিশ বলছে, অভিযোগ না থাকায় নেয়া যাচ্ছে না আইনগত কোনো ব্যবস্থা।

নিহত আয়নালের বড়ভাই জাকির মোল্লা বলেন, ভয়েস পাঠিয়েছিল। যেখানে বলেছিল ভাই আমাদের খুব মারে। ৮-৯ দিন খেতে দেয় না। প্লাজ দিয়ে নখ উঠিয়ে ফেলে।

লিবিয়ায় নিহত আয়নালের ওপর নির্মম অত্যাচারের বর্ণনা দিলেন ভাই জাকির মোল্লা। শুধু আয়নালই নয়, তার মতো অনেককেই নানা ধরণের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে লিবিয়া হয়ে ইতালি নিয়ে যাওয়ার জন্য মাদারীপুরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি দালাল চক্র। দালালদের প্রতারণার ফাঁদে সর্বশান্ত হচ্ছেন গ্রামের তরুণ ও যুবকদের পরিবার।

ইতালি যাওয়া তো দূরের কথা এসব তরুণ ও যুবকদের আটকে রাখা হয় লিবিয়ার বন্দিশালায়। সেখানে বৈদ্যুতিক শক দেয়া, নখ উপড়ে ফেলাসহ বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করে পরিবারের কাছে দালালরা পাঠায় অডিও ও ভিডিও বার্তা। পরে দালালচক্র দাবি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন একাউন্টে কয়েক দফা লাখ লাখ টাকা পণ দিলেও মুক্তি মিলছে না জিম্মিতে থাকা তরুণ ও যুবকদের।

নাগরিক সমাজের দাবি, দালালচক্রের সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় না আনতে পারায় তিউনিসিয়ায় ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবি, লিবিয়ায় মাফিয়াদের গুলিতে নিহতের মতো একই ঘটনা বারবার ঘটছে।

সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি খান মোহাম্মদ শহীদ বলেন, দালাল চক্রের যে অস্তিত্ব নির্মূল করার কোনো উদ্যোগ আমরা দেখতে পাই না।

তবে পুলিশ বলছে, অভিযোগ না থাকায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

অফিসার ইনচার্জ মো. শওকত জাহান বলেন, আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসে নাই। আইনগত সাহায্য যদি কেউ চায়, সে যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনবো।

স্বজনদের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য রাজৈরের বদরপাশার জুলহাস সরদারের মাধ্যমে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাবার সময় গুলিতে নিহত হয় মাদারীপুরের ১১ তরুণ ও যুবক। তাদের প্রত্যেকের পরিবার ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলেও কাউকেই দেশে ফেরত পাঠায়নি দালালচক্র।

সূত্র: সময় টেলিভিশন