ত্রান নিয়ে নারী ইউপি সদস্য বিউটির বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০
0Shares

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সদর ইউনিয়নের নারী সদস্য বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে ত্রান বিতরন, মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকা প্রনয়নে অনিয়ম, উৎকোচ গ্রহনসহ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে একাধিকবার মানববন্ধনসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট ওর্য়াডের শতাধিক নারী পুরুষ।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহিপুর থানার সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য নিমাই চন্দ্র দাসের পরলোক গমনের পর ওই ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য বিউটি বেগম। এ সুযোগে ত্রান বিতরনসহ মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকা প্রনয়নে সেচ্ছাচারিতা শুরু করেন বিউটি বেগম। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের দেয়া ত্রান বিতরনে ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ কাউকে তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

নারী ইউপি সদস্য বিউটি বেগমের এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে দু’দফা মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন ভূক্তোভোগীরা। এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। ছায়া রানী জানান, তার ভাতিজিকে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া আশ্বাসে তার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েও নাম তালিকাভূক্ত করেনি। বরং বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে ইউপি সদস্য বিউটি বেগম।

সাবিনা আক্তার জানান, মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নিয়েছেন বিউটি বেগম। কিছুদিন পর তালিকা থেকে তার নাম বাদ দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে উপজেলা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের মাধ্যমে পূনরায় তার নাম তালিকাভ’ক্ত করেন।

লক্ষী রানী, স্বামী পরিত্যাক্তা স্বরজু বালা বলেন, মানুষের বাসা-বাড়ীতে কাজ করে সন্তান নিয়ে জীবিকা র্নিবাহ করি। ত্রানের জন্য বিউটি মেম্বরের হাতে-পায়ে ধরেও পাইনি।
ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ওয়ার্ড ত্রাণ কমিটির আহŸায়ক সোহরাব হাওলাদার বলেন, ত্রানের তালিকা প্রনয়নের ওয়ার্ড ত্রাণ কমিটির সাথে কোন ধরনের সমন্বয় ছাড়াই বিউটি বেগম ইচ্ছেমত তালিকা প্রননয় করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিউটি বেগম বলেন, ক’দিন বাদেই মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা আমাকে জনসাধারনের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ষড়ডন্ত্র করছে। ত্রান নিয়ে অনিয়মের কারনে আমি বাদী হয়ে ইতিপূর্বে জনস্বার্থে মামলা করেছিলাম। সেই মামলার আসামী পক্ষ এ ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কল কাঠি নাড়ছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক বলেন, মহিপুরের ইউপি সদস্য’র বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। পিআইওকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।