ফেনীর ফুলগাজীতে যৌতুক ও পারিবারিক জেরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ।

প্রকাশিত: ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০
0Shares
এস এম আরমান,ফেনী প্রতিনিধিঃ
ফেনীর ফুলগাজীতে যৌতুক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে স্বামী এবং শাশুড়ি গৃহবধূকে হত্যা করেছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের বন্ধুয়া হাজী স্টোর ভূঞাঁ বাড়িতে এক গৃহবধূ সালমা আক্তার (১৮) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে ফুলগাজী থানা পুলিশ। ৫ জুন (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে বারোটায় এ ঘটনা ঘটে।
ফুলগাজী থানার এস আই মোঃ আশ্রাফ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে আত্নহত্যা করে সালমা, কিন্তু সালমার পক্ষের লোকেরা জানান যৌতকের টাকা না পেয়ে আত্নহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে। ময়না তদন্তে হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা প্রমানিত হবে।
নিহত সালমার বাবা আবু তালেব জানান, তার মেয়েকে স্বামীসহ শুশুর বাড়ির লোকজন ২ লক্ষ টাকা যৌতক দাবী করে। আমরা তা দিতে না পারায় মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে আত্নহত্যার নাটক সাজিয়েছে।
ঘটনার পরপর শুশুর বাড়ির লোকজন লাশ রেখে পালিয়ে যায়।
বিয়ের সময় তাদের চাহিদা অনুযায়ী আলমারি, ফ্রিজ, খাট, টাকাসহ অন্যান্য সবকিছু পরিশোধ করেছি। এছাড়াও তারা দু-একদিন পর পর আমার মেয়েকে অত্যাচার করে এবং টাকা দেয়ার জন্য আমাদেরকে চাপ প্রয়োগ করছে। গতকালও আমি মেয়ের স্বামীর জন্য ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। যৌতুক ছাড়াও এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকা জোর করে আমাদের থেকে আদায় করেছে।
গত কিছুদিন যাবত ২ লাখ টাকা দেয়ার জন্য মেয়েকে এবং আমাকে চাপ দিয়ে যাচ্ছে মেয়ের স্বামী। সে টাকা আমরা দিতে ব্যর্থ হয়েছি। সেজন্য হয়তো আমার মেয়েকে বিভিন্ন অত্যাচার করে তারা হত্যা করেছে, পরে সেটা আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।
নিহত সালমা আক্তারের মা খুশি বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী আমার পরিবারের কাছে বিভিন্ন আজুহাতে অর্থ দাবি করেছে। আমরা গরীব তার চাহিদা অনুযায়ী সে টাকা দিতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছি তার পরেও আমি বিভিন্নজন থেকে ধার নিয়ে তাকে টাকা দিয়েছি আমার মেয়ের শান্তির জন্য। টাকার জন্যই আমার মেয়েকে তারা হত্যা করেছে।
এঘটনায় নিহত সালমার বাবা আবু তালেব বাদী হয়ে স্বামী নজরুল ইসলাম শামিম সহ তার ভাই কাউসার, শাকিল এবং শাশুড়ী মায়া আক্তারকে আসামী করে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় ফুলগাজী থানা মামলা করেছে।
ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কুতুবউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আত্নহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অপরাধে মামলা হয়েছে।
লাশ পোস্টমর্টেম এর জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা সঠিক তথ্য জানা যাবে।