ধামরাইয়ে বাড়ছে করোনার ঝুঁকি, সাংবাদিক পুলিশ সহ আক্রান্ত, মোট ২২৯

প্রকাশিত: ৬:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০
0Shares

অনলাইন ডেক্স : ঢাকা ধামরাইয়ে যত্রতত্র ঘুরছে মানুষ, রাস্তায়, বাজারে ও গার্মেন্টস শ্রমিকদের যাতায়াত কেউ মানছে না শারীরিক দূরত্ব বা সরকারি স্বাস্থ্যবিধী। পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার পর ও লকডাউন ছাড়ার পর থেকে ধামরাই উপজেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। ধামরাই উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে সাংবাদিক পুলিশ সাস্থ্য কর্মি সহ ২২৯জন। আক্রান্ত হয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও স্টাফ,পোশাক কারখানার শ্রমিক, ধামরাই পৌরসভার স্টাফ, সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্য সহ গত ৭ই জুন পর্যন্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ২২৯ জন।

এ পর্যন্ত নমুনা পরিক্ষা করা হয়েছে প্রায় ১৩৮৯ জন। তার মধ্যে ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের কাকরান এলাকায় ১জন, পৌরসভার ছোটচন্দ্রাইল এলাকায় ১ জন, মোট ০২ জন করোনা সনাক্তকারি রোগী মারা গেছে। এখন প্রতিদিনই আসছে করোনার পজেটিভ। এ পর্যন্ত যতোজন করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে ২৭ জন সুস্থ হয়ে নিজ ঘরে ফিরেছে। অথচ খুলে দেওয়া হচ্ছে অফিস, সপিংমল সহ গন পরিবহন।

যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করা হয় কিংবা সামাজিক দূরত্বের প্রতি জোর দেওয়া না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। মানুষ বাহিরে এবং বাজারে নিয়ম না মেনে চলাচল করছে এদের কারনেই করোনার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেকেই ধারণা করছেন মানুষ যদি শারীরিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলে তাহলে আগামী এক সপ্তাহে ধামরাই উপজেলা আরও খারাপের দিকে যাবে। সোশ্যাল ট্রান্সমিশন হয়ে থাকলে আগামী সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে পারে।

এ কারণে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও সাধারণ জনগণের চলাচলে সামাজিক দূরত্ব গুরুত্বপূর্ন। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রতিটি গ্রামে আক্রান্তের মিছিল রোধ করা যাবে না। এ পর্যন্ত ধামরাই পৌরসভা সহ ধামরাই উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে করোনা সংক্রমণ ধরা পরেছে এবং তা বেড়েই চলেছে।

করোনা ভাইরাস নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সামিউল হক বলেন, আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলে। তারপরে কারখানার শ্রমিকদের নিয়ে এখন চিন্তায় আছি ধামরাই একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা যদি কারখানার শ্রমিকদের মাঝে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে তাহলে আর এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নূর রিফফাত আরা বলেন, এ পর্যন্ত ধামরাইয়ে ১৩৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তার মধ্যে ২২৯ জন আক্রান্ত হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছে ৩৩ জন, সর্বমোট ২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছে, সর্বমোট ০২ জন মারা গেছে। আমি মনে করি মানুষ কোনো ভাবেই করোনা ভাইরাস থেকে বাচতে পারবে না যতক্ষণ না তারা সরকারি স্বাস্থ্যবিধী মেনে না চলবে। এখন ধামরাই বাসীর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা,কারো সাথে হাত না মেলানো, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত মুখ পরিষ্কার করা, মাক্স পড়া ,বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া এসব কিছুই নিজ দায়িত্বে মেনে চলা উচিত বলে মনে করি।

ধামরাই পৌর মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লা বলেন, আমাদের সরকার প্রত্যেকটি নাগরিকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সকল পদক্ষেপ নিয়েছে ,আমি সে লক্ষেই কাজ করছি আমি সরকারি সহযোগিতা ও নিজ অর্থায়নে এ পর্যন্ত পৌর বাসীকে সহযোগিতা করে আসছি। করোনা পজিটিভ পরিবারের খোজ খবর নেওয়া সহ তাদের মাঝে ভিটামিন সি জাতীয় ফলমূল খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করছি। পৌরসভার পক্ষে সচেতন মূলক যা যা করা দরকার আমি সেগুলো প্রথম থেকেই করে আসছি।

সকল জনসাধারণের প্রত্যেকটি স্বাস্থ্যবিধি পালন করা অতিব জরুরী তাই সকল কেই সামাজিক দূরত্ব, কারো সংস্পর্শ, সেনিটাইজার ব্যবহার ও মাক্স পরা এসব বিষয়ের প্রতি জোর দেওয়া উচিত।

সূত্র: cbcbanglatv