বাউফলে নারী স্টাফকে যৌন হয়রানির অভিযোগে চিকিৎসক গ্রেফতার 

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০
0Shares
পটুয়াখালী প্র‌তি‌নি‌ধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে নারী স্টাফকে (৩২) যৌন হয়রানির অভিযোগে মোঃ শাহ আলম (৬৫) নামের এক চিকিৎসককে গ্রেফতার ক‌রে‌ছে বাউফল থানা পু‌লিশ। গ্রেফতারকৃত শাহ আলম বাউফল হেলথ কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এ্যান্ড ক্লিনিকের এনেসথেসিয়ার বিভাগের চিকিৎসক। তিনি একসময় বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসাবে চাকুরি করতেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ডাঃ শাহ আলম বাউফল হেলথ কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এ্যান্ড ক্লিনিকে কর্মরত অবস্থায় চাকু‌রি হারা‌নোর ভয় দে‌খি‌য়ে এক নারী স্টাফকে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি ওই নারী স্টাফকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে  আপত্তিকর কাজ করতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে অতিষ্ট হয়ে ওই নারী স্টাফ সোমবার রাতে ডাঃ শাহ আলম ও বাউফল হেলথ কেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এ্যান্ড ক্লিনিকে পরিচালকসহ তিনজনকে আসামী করে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর ওই রাতেই বাউফল সার্কেলের সিনিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হয়। কিন্তু তিনি বাসার দরজা না খোলায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এরপর সারারাত পুলিশ তার বাসা ঘেরাও করে রাখে। পরের দিন মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডাঃ শাহ আলমের বাড়ি বাউফল উপজেলার দাশপাড়া গ্রামে।
বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওই চিকিৎককে গ্রেফতার করে পটুয়াখালী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সং‌শ্লিষ্ট সূ‌ত্রে প্রকাশ, ডাঃ শাহ আলম এ পর্যন্ত যত উপজেলায় চাকুরি করেছেন সেখানেই নারী কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগ থাকায় অবসরের পরেও এখন পর্যন্ত পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারেননি।
বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সূত্র জানায়, ডাঃ শাহ আলমের এনেসথেসিয়ার সনদটি জাল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ৬ মাসের কোর্স শেষ করে এ সনদ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু তার সনদটি পাঁচ মাস কোর্সের। এ ধরণের সনদ দেশের কোন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেয়া হয়না। তিনি এই জাল সনদ দিয়ে বাউফলে দুইটি ক্লিনিকে প্রায় শতাধিক প্রসূতি মাকে এনেসথেসিয়া দিয়েছেন।