বাউফলে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২০
208 Views

এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর বাউফলে মেরামতযোগ্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক পরিত্যক্ত দেখিয়ে নিলামে তোলার পর সেখানে আরেকটি নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে সরকারের কয়েক লাখ টাকা অপচয় হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তার গ্রামের বাড়িতে নির্মাণাধীন ওই কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের ঝিলনা গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে ২০০১ সালে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ডা. তহমিনা সুলতানার পৈত্রিক বাড়ি এটি। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে সারাদেশের মতোই ওই ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পুণরায় আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতার আসার ওই ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে সম্প্রতি তহমিনা সুলতানা তার বাড়ির পুরানো কমিউনিটি ক্লিনিক নিলামে তুলে পাশেই অপর একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এরপর পুরানো ওই কমিউনিটি ক্লিনিক কয়েকমাস আগে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নাম মাত্র মুল্যে নিলামে দেয়। তহমিনা সুলতানার ভাই ফিরোজ হাওলাদার বেনামে পুরানো ওই ক্লিনিক ক্রয় করে সেটি তিনি মেরামত করে নিজের অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানা যায়, ক্লিনিকটি মেরামতযোগ্য ছিল। সামান্য কিছূ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলেই ক্লিনিকটি ব্যবহার উপযোগী করা যেত। কিন্তু ওই ক্লিনিক পুরোপুরি ড্যামেজ দেখিয়ে পটুয়াখালী স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা নিলামে তোলেন।
এদিকে নিলামে তোলার পরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা পাশে আরেকটি নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী ২০১৯-২০২০ইং অর্থ বছরে ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ ওই ক্লিনিক নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান।

রোববার নির্মাণাধীণ ওই ক্লিনিক পরিদর্শনকালে দেখা যায়,ডবল স্লাব বিশিষ্ট ক্লিনিকের প্রথম স্লাবের ঢালাইয়ের কাজ চলছে। কাজটি তদরাকির দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারি প্রকৌশলী হৃদয় বসু বলেন, পুরানো ক্লিনিকের বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। নতুন ক্লিনিকের কাজটি তদারকির দায়িত্ব আমার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তহমিনা সুলতানার ভাই ফিরোজ হাওলাদারকে দেখিয়ে তিনি বলেন, উনি ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। বিস্তারিত তিনিই বলতে পারবেন।

ফিরোজ হাওলাদার এ প্রতিনিধিকে বলেন, এখানে কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি নেই। পুরানো কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবহার অযোগ্য ছিল। আমি ক্লিনিকটি নিলামে ক্রয়ের পর নিজের পকেটের পয়সায় পুরানো অবকাঠামোর উপর জোড়াতালি দিয়ে ব্যবহার উপযোগী করেছি। এতে আমার বোন তহমিনা সুলতানার কোন প্রকার সম্পৃক্ততা নেই।