শেরপুরের নকলা প্রেসক্লাবের জরুরি সাধারণ সভায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত

প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ১০, ২০২০
0Shares

শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুরের নকলা প্রেসক্লাবের এক জরুরি সাধারণ সভায় ৫ সাংবাদিককে নকলা প্রেসক্লাবের নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রেসক্লাবের সদস্য হতে আগ্রহী জেলা বা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন পত্রিকায় কর্মরতদের যথাযথ শর্ত পূরন পূর্বক আবেদনের প্রেক্ষিতে সভায় উস্থিতিদের সর্বসম্মতিক্রমে তাদের নকলা প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত কার হয়। নতুন সদস্য হিসেবে যাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হলো তারা হলেন- সাংবাদিক মো. দেলেয়ার হোসেন, মো. মোফাজ্জল হোসেন, মো. মানিক মিয়া, মো. নাহিদুল ইসলাম রিজন ও মো. সুমন মিয়া।

৯ জুন মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নকলা শাহরিয়া ফাজিল মাদরাসায় নকলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রবীণ সাংবাদিক বিশিষ্ট কবি কলামিষ্ট তালাত মাহমুদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাণুরাগী প্রবীণ সাংবাদিক মুহাম্মদ হযরত আলী। নকলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন সরকার বাবুর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- নকলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জসিম উদ্দিন মিন্টু, সম্মানিত সদস্য আলহাজ্ব মাহবুবর রহমান, মিজানুর রহমান, মো. মোশারফ হোসাইন ও মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

এ সাধারণ সভার সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, বক্তাগন ও নতুন সদস্যগনসহ অন্যান্যদের মধ্যে নকলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সেলিম রেজা, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রফিক, দপ্তর সম্পাদক মমিনুল ইসলাম সুমন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নূর হোসাইন, সম্মানিত সদস্য ফজলে রাব্বী রাজন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথি তালাত মাহমুদ ও বিশেষ অতিথি মুহাম্মদ হযরত আলী তাদের বক্তব্যে নকলা প্রেসক্লাবের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও সাংবাদিকদের সংগঠনটিকে সুনামের সহিত পরিচালনা করতে দিকনির্দেশনা মূলক পরামর্শ প্রদান করেন। তাঁরা বলেন, যে কোন ভালো কাজে বাধা আসবেই, তাতে বিচলিত ও পিছপা না হয়ে সত্যের পথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অপরাধীরা যত ক্ষমতাধর লোকই হউক না কেন, তারাও সত্যের কাছে হার মানতে বাধ্য। তাই সত্য খবর প্রচার-প্রকাশে উপজেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিক ভাইদের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহবান জানান বক্তারা।

বিশেষ করে নবীণ সাংবাকিদের প্রয়োজনে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদেরকে সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আর্দশ ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রচারে উদ্বুদ্ধ করতে সিনিয়র সাংবাদিকদের আহবান জানান তাঁরা। তাঁরা বলেন, বর্তমানে অনেক সুযোগসন্ধানী অপরাধী লোক আছেন যারা বিভিন্ন কৌশলে বা নানান কিছুর বিনিময়ে হলেও রাষ্ট্রের চতুর্থ শক্তি সংবাদ মাধ্যমের সাথে জড়িতদের ব্যবহার করতে চান। এক্ষেত্রে সকল সাংবাদিকগন ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করলে সহজে কেউ সুশীল পেশার সাংবাদিকদের ব্যবহার করার চিন্তা করবেন না। তাতে দিন দিন সাংবাদিকদের সুমান বাড়বে। তবে সমাজে এমন কিছু সাংবাদিক আছেন যাদের কারনে আজ অনেক সাংবাদিকরা প্রায়ই লজ্জার সম্মূখিন হন।

এধরনের লোকদের কাছ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখার পরামর্শও দেন তাঁরা। তাছাড়া বর্তমানে এমন কিছু সাংবাদিক পরিচয় বহনকারী আছেন যে বা যারা নাকি আরেক সাংবাদিক ভাইকে হেয় করে কথা বলেন, এমনকি তারা সাংবাদিক পরিচয় বহন করেও অন্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে লেখা-লেখি করে নিজেদের দুর্বল অবস্থান প্রকাশ করেন। তাতে সাধারণ মানুষের মনে নানান প্রশ্নের উদয় হয়, পাশাপাশি বস্তুনিষ্ট ও সুশীল সাংবাদিকদের প্রতি তাদের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এতে সাধারণ জনগনের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা হারাচ্ছে মহান পেশা সাংবাদিকতা। তাই সাংবাদিকতা পেশাকে কলঙ্কিত করা এমন সাংবাদিকদের বুঝিয়ে সঠিক পথে আনতে পরামর্শ দেন। এতে কাজ না হলে প্রয়োজনে ওইসকল অপসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াসহ তাদেরকে সাংবাদিক জগৎ থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে প্রেসক্লাবের নেতবৃন্দের প্রতি আহবান জানান বক্তারা।

আলোচনা শেষে উপস্থিত সকল সাংবাদিকগন কয়েক সেকেন্ডের ফটোশেসনে অংশ নেন। রাস্তা সংলগ্ন মাদ্রাসা মাঠে নকলায় কর্মরত প্রবীণ-নবীন সাংবাদিকদের সমাগম দেখে স্মৃতি হিসেবে রাখতে সাংবাদিকদের সাথে ফটোসেশনে অংশনেন বস্তুনিষ্ট লেখক দৈনিক ভোরের ডাকের সাবেক প্রতিনিধি মো. সেলিম মিয়া, দৈনিক আমার সময়’র শেরপুর জেলা প্রতিনিধি নাঈম ইসলাম, তরুণ স্বেচ্ছা সেবক আশরাফুল আলম, ছোট পর্দার তরুণ অভিনেতা উজ্জল সরকার জয়সহ অনেকে।