এক এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় যেতে পারবে না !রেড জোনে ছুটি ঘোষণা আজ কালের মধ্যে, নামাজ পড়তে হবে ঘরে

প্রকাশিত: ৭:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০
0Shares

অনলাইন ডেক্স: রাজধানী ঢাকা ও সারা দেশের রেড জোন এলাকা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে দু-এক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে। এ নিয়ে ধারাবাহিক সভা চলছে। রেড জোন এলাকার লোকজন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারবেন না। রাজধানীতে সব রেড জোন একসঙ্গে লকডাউন করা হবে। তার আগে রেড জোন এলাকা চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেবে।

আর দেশের অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহরে রেড জোন এলাকা ঘোষণার বিষয়ে সিভিল সার্জনদের পূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। রেড জোনে সাধারণ ছুটির বিষয়ে আজকালের মধ্যেই সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমানে যেভাবে সীমিত পরিসরে অফিস-আদালত চলছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সেভাবেই চলবে।

করোনাভাইরাসের  (কভিড-১৯) সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার এখন এলাকাভিত্তিক লকডাউনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে কাজ করছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও সংস্থা। রেড, ইয়েলো এবং গ্রিন জোনে ভাগ করে লকডাউন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পূর্ব রাজাবাজারকে গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে লকডাউন করা হয়। এখান থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে লকডাউন এলাকাগুলোয় কাজে লাগানো হবে।  স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা এখনো কাজ করছি।

দু-এক দিনের মধ্যেই জানা যাবে রাজধানীর কোন এলাকা রেড, ইয়েলো বা গ্রিন জোন। তিনি জানান, এটা আনুষ্ঠানিকভাবেই জানানো হবে। এক প্রশ্নের জবাবে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ঢাকায় যেসব এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে সেগুলোকে একসঙ্গেই লকডাউন করতে হবে। সেটাই হওয়া উচিত। নইলে এক এলাকার রোগী অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, রাজধানীর বাইরে দেশের জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে জেলার সিভিল সার্জন-ই নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট জেলায় কোন এলাকা লকডাউন করা হবে। ইতিমধ্যে এই ক্ষমতা সিভিল সার্জনদের দেওয়া হয়েছে। তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেবেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর কেন্দ্রীয়ভাবে তাদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট দেবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ৩০ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে যে অফিস আদালত খুলে দেওয়া হয়, নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত একইভাবে চলবে। তবে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত যেসব এলাকা লকডাউন করা হবে সেগুলোতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, রেড জোন ১৪ থেকে ২১ দিন লকডাউন থাকবে। এই সময়টায় সংক্রমণ আইন অনুযায়ী যে যেখানে আছে সেখানেই থাকবে। স্বাস্থ্য বিভাগ হটস্পটগুলো চিহ্নিত করছে। খুব শিগগিরই তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে লকডাউনে যাবে। রেড জোন এলাকাগুলোতে কভিড-১৯ পরীক্ষায় বুথ বসানো হবে। সেখানে চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। শুধু কভিড-১৯ নয়, অন্য যে কোনো রোগী যেমন হার্টের কিংবা কিডনির রোগী কিংবা অন্য রোগের রোগী তাকেও চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে সহযোগিতা দেওয়া হবে। খাবারের গাড়ি থাকবে। হটলাইন নম্বর থাকবে। কমিটিগুলো কাজ করবে।

এদিকে লকডাউন কার্যকর নিয়ে গত শুক্রবার এক ভার্চুয়াল সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনসহ পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত কমিটিগুলোকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ জাহিদ মালেকের সভাপতিত্বে এলাকাভিত্তিক ‘লকডাউন’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত এ বৈঠকে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেছেন, কভিড-১৯ মোকাবিলায় সরকারের একটি কমিটির নিয়মিত বৈঠক এটি। তিনি বলেন, মানুষের অভ্যস্ততা না থাকায় লকডাউন পুরো দেশে করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমরা স্থানীয়ভাবে যেসব জায়গায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি সেসব জায়গায় লকডাউন বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছি।

যেসব এলাকা ভালো আছে সেসব এলাকায় যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে বিষয়টা নিশ্চিত করা। রাজাবাজারের অভিজ্ঞতা কী, সুবিধা অসুবিধা কী, চ্যালেঞ্জগুলো কী আমরা জেনেছি। পরবর্তীতে কোনো এলাকায় লকডাউন জারি করলে কী করতে হবে এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও জানান, ত্রাণ বিতরণসহ জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেই কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার মাধ্যমে লকডাউনের বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিলে তা বেশি কার্যকর হবে বলে বৈঠকে অনেকে অভিমত দেন। জোনভিত্তিক এলাকাগুলোতে জরুরি সেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লকডাউন কার্যকর করতে জনপ্রতিনিধিদের অংশ বাড়াতে চাইছি আমরা।

রেড জোনে নামাজ  পড়তে হবে ঘরে : অত্যধিক করোনা সংক্রমণ এলাকায় (রেড জোন) মুসলমানদের নামাজসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা ঘরে বসেই করতে হবে। মসজিদ কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সমবেত হয়ে প্রার্থনা করা যাবে না। এমন পাঁচটি নির্দেশনা দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় গতকাল বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় ধর্ম মন্ত্রণালয় গত ৬ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনসাধারণের মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসায় ইবাদত/উপাসনা করার নির্দেশ দেয়। পরে ৬ মে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে সুস্থ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে জামায়াতে নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং সংক্রমণ ও প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। করোনাভাইরাস রোগের চলমান ঝুঁকি বিবেচনায়  দেশের যে কোনো ছোট বা বড় এলাকাকে লাল, হলুদ বা সবুজ জোন (রেড, ইয়োলো ও গ্রিন) হিসেবে চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক জোনিং সিস্টেম বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গত ১২ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপসনালয়ে সর্বসাধারণের আগমন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: bd-pratidin