সাগর উত্তালঃ কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে ৩জেলে নিখোঁজ

প্রকাশিত: ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০
0Shares

 পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ
বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হওয়ায় কুয়াকাটা সংলগ্ন দক্ষিন বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। দিনভর ভারী বর্ষন আর উত্তাল সাগরে ইলিশ পাবার আশায় সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার মালিকসহ ৩ জেলে নিখোঁজ হয়েছে। বিকাল ৪থেকে ৫টার মধ্যে এ ঘটনা দেখে অন্য ট্রলারের জেলেরা এগিয়ে আসলেও ঢেউয়ের ঝাপটায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের কাছাকাছি পৌছতে পারেনি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা জানান,‘‘বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ ভোলা কোষ্টগার্ড ঘটনাস্থলে যাবে নিখোজ জেলেদের উদ্ধারে।’’ তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সাগরে কিভাবে মাছ ধরতে গেল এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই কর্মকর্তা জানান, “কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাড়ির মাধ্যমে জানতে পেরেছি তারা মাছ ধরার উদ্দেশে নয় বরং অবরোধ শেষ হলে সাগরের ওই এলাকায় যাতে মাছ ধরতে পারে সেজন্য জেলেরা সাগরে খুটা ফেলে সীমানা নির্ধারণ করতে গিয়ে প্রচন্ড ঢেউয়ে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে”।

এদিকে ট্রলার মালিক ও নিখোজ আমির মাঝির শ্যালক মোঃ হানিফ মিয়া মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আষাঢ়ের বৃষ্টিতে কুয়াকাটা উপকুল থেকে প্রায় ১০/১৫কিলোমিটার দক্ষিন সাগরে ইলিশের আনাগোনা বেশি থাকে। তাই অভাবের সংসারে কিছু মাছের আশায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই সাগরের চরবিজয় নামক স্থানে মাছ ধরতে গিয়েছে তার ভগ্নিপতি আমির মাঝিসহ আরো তিন জন। ছোট ইঞ্জিন চালিত ট্রলার স্থানীয় ভাষায় খুটা জালের নৌকা নিয়ে দুপুরের দিকে রওয়ানা হয় আমির। কিন্তু বিকালে সাগর উত্তাল হওয়ায় ঢেউয়ের ঝাপটায় ট্রলারটি ডুবে যায়।

পরে জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকলে অন্য ট্রলারের জেলেরা আমিরের পরিবারকে খবর দেয়। তাদের সাহায্যে অন্য ট্রলার এগিয়ে আসার চেষ্টা করলেও উত্তাল সাগরে তাদের কাছাকাছি গিয়ে উপকুলে ফিরে আসে। হানিফ আরো জানায়, যেহেতু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করতে গেছে সেহেতু বিষয়টি তারা স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করেনি। তারপরেও অনেকে ফোন দিয়ে তার কাছে খোজ খবর নিয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে ট্রলার ডুবির খবর প্রথমে কুয়াকাটা নৌ পুলিশ ফাড়ির এক সদস্য পটুয়াখালীর সংবাদকর্মীদের কাছে জানালেও পরে তিনি অস্বীকার করেন। এ ব্যপারে কুয়াকাটা আলীপুর মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, সাগরে ৬৫দিনের অবরোধ থাকায় ফিশিং ট্রলার সব আলীপুর মহিপুর বন্দরে নোঙ্গর করে আছে। তাছাড়া ট্রলার ডুবিতে জেলে নিখোজের কোন খবর তার কাছে নাই। তবে যেহেতু ছোট ট্রলার অর্থাৎ খুটা জালের নৌকা সাগরে মাছ ধরতে পারে সেটা অস্বাভাবিক নয় এবং সেক্ষেত্রে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটতেও পারে। নিখোজ জেলেসহ ডুবে যাওয়া ট্রলার উদ্ধারে কোষ্টগার্ড দক্ষিনজোন ভোলা স্টেশনের সাথে যোগাযোগ হয়েছে বলে জানান কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। তিনি জানান, ঘটনা শুনে মৌডুবি থেকে দুটি ট্রলার ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল কিন্তু সাগর প্রচন্ড উত্তাল থাকায় সেখানে যেতে পারেনি।