সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ! নকলা পৌর মেয়রের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০
0Shares
শেরপুর প্রতিনিধি :
সর্ববৃহৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেইস বুক)-এ সম্পূর্ণ মনগড়া, বনোয়াট, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও মিথ্যা তথ্য সংশ্লিষ্ট সংবাদের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শেরপুরের নকলা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান লিটন।
১৯ জুন রাতে নকলা শহরের গ্রীণ রোডস্থ মেয়রের নিজ বাসভবনের নিচ তলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ সংবাদের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি এবিষয়ে কি করণীয়? এমন প্রশ্ন রেখে নকলা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে পরামর্শ মূলক উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা করেছেন তিনি।
গত ১৭ জুন নকলা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক ইউসুফ আলী মন্ডল সর্ববৃহৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেইস বুক) তার নিজস্ব টাইমলাইনে নকলা পৌর কর্তৃপক্ষের গত ৪ বছরের উন্নয়ন মূলক কাজে অবাস্তব প্রশ্ন তুলাসহ সাবেক কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী (এমপি), জেলা পরিষদের কর্তৃপক্ষ, উপজেলা নির্বাহী অফিস, উপজেলা পরিষদের কর্তৃপক্ষ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পৌর মেয়র ও তার ছোট ২ ভাই, পিআইও আফিস, পৌর কমিশনারের নাম উল্লেখ পূর্বক সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য তথ্য উপাত্ত সহকারে সংবাদ আকারে একটি লেখা আপলোড করেন। এটি নকলা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন এর নজরে আসলে তিনি কোন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বিষয়টি নকলায় কর্মরত সাংবাদিকদের জানানো প্রয়োজন মনে করে তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করেন।
এ আলোচনা সভায় প্রশ্ন, উত্তর ও প্রস্তাব মূলক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবদিক মোহাম্মদ হযরত আলী, আলহাজ্ব মাহবুবর রহমান, হারুনুর রশিদ, খন্দকার জসিম উদ্দিন মিন্টু, আব্দুল মোত্তালেব সেলিম, মোশাররফ হোসেন বাবু সরকার, শফিউজ্জামান রানা, শফিউল আলম লাভলু প্রমুখ। সকলেই ইউসুফ আলী মণ্ডলের প্রকাশিত সংবাদের সমালোচনা করে বলেন এমন সংবাদ যে বা যারা করবে তাদের বিরুদ্ধে বিহীত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে মানুষ সকল সাংবাদিকদের নিয়ে হেয় করে কথা বলার সুযোগ পায়। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে সাংবাদিক শাহাজাদা স্বপন, নাসির উদ্দীন, সুখন মিয়া, সেলিম রেজা, ফজলে রাব্বী রাজন, নাহিদুল ইসলাম রিজন, মোশারফ হোসাইন ও বেশ কয়েকজন সুশীল জনগন উপস্থিত ছিলেন।
পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান লিটন বলেন, ফেসবুকে ইউসুফ আলী মন্ডল নকলা পৌরসভার মেয়র হিসেবে আমাকে ও আমার প্রতিষ্ঠান, আমার ছোট ২ ভাইকে হেয় করতে এমন ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করেছেন। আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে স্থানীয় এমপি, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পিআইও, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তি যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহর বরাত ও নাম উল্লেখ পূর্বক সঠিক তথ্য উপাত্ত ছাড়া মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করেছেন।
মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন নিজে ইউসুফ আলী মন্ডলের পোষ্ট কার লেখার প্রিন্ট কপি দেখে উপস্থিতিদের ধারাবাহিক ভাবে জানান যে, সাংবাদিক সাহেব যে রাস্তাটি দেখিয়েছেন তা এলজিইডির অধিন, বাসাবাড়িতে ময়লা আবর্জনার কথার জবাবে তিনি বলেন- এখনও বাসা থেকে ময়লা নেওয়ার কোন ব্যবস্থা নকলা পৌর সভার নেই, হলে অবশ্যই ব্যবস্থা করা হবে। পৌর শহরের কোন রাস্তায় হাঁটু পানি জমে থাকার কোন নজির নেই।
ড্রেন সংস্কারের নামে নিজ ভাইকে কেন কাউকেই ঠিকাদার নিয়োগ করার ক্ষমতা পৌর মেয়রের নেই; অথচ সংবাদে বলা হয়েছে, যা হাস্যকর। জেলা পরিষদ কোন দপ্তরকে কাজের জন্য টাকা দেয়না, তারা বৈধ ভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করিয়ে দেয় মাত্র, অথচ ইউসুফ সাহেবের সংবাদ দেখে যেকেউ হাসবেন। আরএকটি বিষয় গত ৪ বছরে এমপি মহোদয়ের দেওয়া এক হাজার টন টিআর দেওয়ার কথাটি কল্পাতীত দাবী করে তিনি জানান, পৌর সভা প্রতি বছরে ২বার ১২ মেট্রিকটন করে মোট ২৪ মেট্রিকটন টিআর পেয়ে থাকে, যার অর্ধেক সৌর বিদ্যুতরে জন্য ব্যবহার বাধ্যতা মূলক। তাছাড়া ৫শ মেট্রিকটন কাবিখা প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি জানান, পৌরসভা যে কাবিখা পায়না, এটাও যে জানেন না, সে কেমন সাংবাদিক? তা আল্লাহ ও সাংবাদিক সাহেব ছাড়া কেউ জানেনা। এমন আজগুবি সংবাদ দেখে যেকেউ মন খারাপ করতে পারেন বলে তিনি বলেন।
মেয়র জানান, তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের নামে যে মিথ্যা প্রচারণা করা হয়েছে, তা সঠিক নহে। এজন্য তিনি তথ্য প্রমাণের জন্য উপস্থিত সকল সাংবাদিক বৃন্দের মতামতের ভিত্তিতে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে জবাব চাইবেন বলে জানিয়েছেন পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন।