আশুলিয়ায় রত্না হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ১

প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০
0Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক: হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন পর আশুলিয়ার চাঞ্চল্যকর রত্না বেগম (৪০) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ইলিয়াস (২৫) কে গ্রেফতার করেছে এসআই মো. আল মামুন কবিরের নেতৃত্বে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি টিম। শনিবার (২১ জুন) গভীর রাতে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সরদারের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত বুধবার পোশাক শ্রমিক রত্না বেগমকে হত্যা করে পালিয়ে যায় হত্যাকারী।

গ্রেফতার ইলিয়াস (২৫) মাগুড়া জেলার শ্রীপুর থানার সফি মন্ডলের ছেলে। এছাড়া নিহত রত্না বেগম (৪০) গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার হলুদিয়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি আশুলিয়ার বেরন এলাকার বাবুল মিয়ার মালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে থাকতো। এছাড়া তারা উভয়েই স্থানীয় পোশাক কারখানায় কাজ করতো।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার রত্না বেগম ও হত্যাকারী ইলিয়াস আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকুরী করতো। সেই সুবাদে ইলিয়াসের সাথে রত্নার পরিচয় ঘটে এবং তাকে ধর্মের বোন হিসেবে সম্বোধন করে। একপর্যায়ে ধর্মের বোন ডাকা ইলিয়াসকে বিয়ে করার আশায় রত্না তার স্বামীকে ডিভোর্স দেয়, সেই ঘরে রত্নার ১৬ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে ইলিয়াস রত্নাকে বিয়ে না করে প্রিয়া নামের একটি কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে বিপত্তি হয় তাতে। ইলিয়াসের নতুন বিয়ের কথা রত্না বেগম না জানলেও তাদের মাঝে ছিলো ভালোবাসার কমতি। রত্না বেগমকে ইলিয়াস আর আগের মতো সময় দিতোনা। সময় কম দেওয়ায় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া মারামারি হতো। অবশেষে ইলিয়াস দুকুল সামলাতে না পেরে রাতের আঁধারে শ্বাসরোধ করে রত্নাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আল মামুন কবির জানান, রত্না বেগমকে হত্যার পর হত্যাকারী নিজেই রত্নার আপন ভাই মঞ্জুরুল ইসলামকে হত্যার বিষয়টি ফোন করে জানায়। পরে মঞ্জুরুল ইসলাম বিষয়টি আশুলিয়া থানাকে অবহিত করলে বুধবার রাত ১১টার দিকে ঘরের তালা ভেঙ্গে রত্না আক্তারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এরপরই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সরদারের সুদক্ষ দিক নির্দেশনায় ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশ৷ শুরু হয় রাত দিন এক করে হত্যাকারীকে গ্রেফতারের প্রাণপণ চেষ্টা। কিন্তু ইলিয়াস তো যেমন তেমন ছেলে নয়, সে তো নিজের ফোন বন্ধ করেছেই সাথে তার সকল আত্মীয় স্বজনেরও। পুলিশ কর্মকর্তা আল মামুন কবিরও নাছোরবান্দা, হাল ছাড়েননি বরং হত্যাকারীকে গ্রেফতারে পরিচালনা করেন সাড়াশি অভিযান। পরবর্তীতে ৩ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে ঝিনাইদহ জেলার একটি বাড়ি থেকে হত্যাকারী ইলিয়াসকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।