বাউফলে আমণ মৌসুমে বীজধান সংকট, চড়ামূল্যে বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০
0Shares

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
বাউফলে আমণ উপশী জাতের বীজ বিক্রিতে কৃষকের কাছ থেকে দ্বিগুণ দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে বাউফল বীজ বিক্রেতা ডিলা দের বিরুদ্ধে। আমণ চাষের জন্য সরকার কর্তৃক বীজের ভর্তুকি দিয়ে ১০ কেজির বীজের দাম নির্ধারিত মূল্য ২৯০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু বীজ ডিলাররা অধিক মুনাফা লাভের জন্যে কৃষকের কাছ থেকে ৪শ টাকা ৫শ টাকা বিক্রি করছে । অভিযোগ রয়েছে অধিক মুনাফা লাভের আশায় এসব ডিলাররা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে আমণ বীজ বিক্রি করে দিচ্ছে বলে একাধিক সুত্র জানায়, ফলে কৃষকের কাছ থেকে আমণ মৌসুমে বীজের চড়ামূল্য নেয়ায় প্রান্তি কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, বাউফল উপজেলা কৃষি অফিস, ৩৬ হাজার ১ শ ৯০ হক্টের জমিতে আমণ বীজতলা লক্ষমাত্রা অর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে । এর মধ্যে ১৯ হাজার ৫শ স্থাণীয় জাতের বীজতলা এবং ১৬ হাজার ৫শ উপশী আমণ ধানের বীজতলার জন্যে ২২ হেক্টর স্থাণীয় এবং উপশী ১১শ হেক্টর জমিরতে আমণ বীজতলা উৎপন্ন করবে । উপজেলার কৃষকের চাহিদানুযায়ি শ্যামল চন্দ্র মালাকার, গাজী এন্টারপাইজ এবং কবির দুয়ারি এন্টার প্রাইজ নামের তিনজন ডিলারকে বাংলাশে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন সংস্থা লাইসেন্স দেয় কৃষি বিভাগ । এসব ডিলাররা কৃষককে ১১ লক্ষ কেজি ধানের বীজ সংগ্রহ করে আমণ চাষের মৌসুমে উপশী,বিরি ৫২,৭১,৭২,২৬,৭৭,৮৭ এবং বিণা ১১,১৬,১৭,২০ । এসব জাতের ধানের বীজ জলবায় সহিষ্ণু এবং অধিক ফলনের জন্যে কৃষি উন্নয়ন সংস্থা প্রকিবছর আমণ মৌসুমে এসব বীজ ডিলারদের মাধ্যমে কৃষককে ন্যার্যমূল্যে দিয়ে থাকে।
আনসার নামের এক কৃষক জানায়, সে চরাঞ্চলে প্রায় একশ একর জমির ধান বর্গা চাষ করে আসছে । কিন্তু কোন প্রকান করকার থেকে সার,বীজ কীটনাশক, কিংবা রোগবালাইয়ের পরামর্শ পর্যন্ত পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন।

নাজিরপুরের কৃষক সত্তার আকন বলেন, সে এবছর প্রায় ৫ একর জমিতে আমণ চাষ করবেন । আমন বীজতলার জন্যে কালাইয়া শ্যামল মালির কাছে গেলে সে ১০ কেজি ধানের দাম ৪শ টাকা রেখেছেন । তিনি অভিযোগ করে বলেন, কৃষি স্যারে বলছে ১০ কেজি ধানের মূল্য ২৯০ টাকা দিবে। কিন্তু প্রতিউত্তরে বলেন, বীজধানের যথেষ্ট সাপ্লাই নেই বলে বাহির থেকে ধান ক্রয় করে দিচ্ছি। চরমিয়াজানের কৃষক ছালাম জানায়,১০ একর জমি বর্গাসহ চাষ করবে এ বছর । কালাইয়া বাজারে সরকারি ডিলার গাজী এন্টাপ্রাইজের কাছে গলে সে জানায় বীজ সাপ্লাই নেই। মঙ্গলবার বুধবার বীজ আসলে পাবেন। পরে তিনি হাজী কালাম নামের এক অনুমোদনবীহিন বীজ ব্যবসায়ির কাছ থেকে ৪শ ৫০ টাকা করে ৩০ কেজি বীজ ধান ক্রয় করেছেন।

এ বিষয়ে শ্যামল মালি, এবং গাজী এন্টাপ্রাইজের মালিক বলেন, তারা চড়া মূল্যে বীজ বিক্রি করছেনা না। তবে তাদের চাহিদার তুলনায় বরাদ্ধ কম পায়। ভর্তুকি হিসাবে তারা ৩৫ হাজার কেজি আমণ বীজধান বিএডিসি গোউন থেকে ছাড় করতে পারছে তাদের লাই সেন্সের অনুকুলে। এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, কৃষকের চাহিদা ১১ লক্ষ কেজি আমণ বীজ ধান। তবে কৃষকের চাহিদানুযায়ি বীজ সরবরাহ করা যাচ্ছেনা। কিন্তু আমণ বীজ ধান নিয়ে অতিরিক্ত ব্যবসা করলে তাদের লাইসেন্স বাতিল সহ ব্যবস্থা নেয়া হবে।