শেরপুরের নকলায় লক্ষমাত্রার চেয়ে আউশ আবাদের অর্জন বেশি, মাঠ পরিদর্শন

প্রকাশিত: ১১:১২ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০
0Shares

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর:

শেরপুরের নকলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছে। তবে লক্ষমাত্রা ছিলো ৪২৩ হেক্টর জমিতে। ফলে লক্ষমাত্রার চেয়ে ৬২ হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি অর্জন হয়েছে। চলতি আউশ আবাদের এ মাঠ পরিদর্শনে এসে কৃষকদের আউশ ধানের মাঠে ব্যস্ত সময় কাটালেন আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাগন। ২২ জুন সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আউশ ধানের মাঠ পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (এডি) কৃষিবিদ নিখিল চন্দ্র সেনসহ অন্যান্যরা।

উপজেলার ৪ নং গৌড়দ্বার ইউনিয়নের গৌড়দ্বার গ্রামে কৃষকরে আউশ ধানের মাঠ পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পরিচালক (এডি) কৃষিবিদ নিখিল চন্দ্র সেন’র সাথে ছিলেন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ ড. মো. রেজাউল করিম, শেরপুর খামার বাড়ির উপপরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ ড. মোহিত কুমার দে, নকলা উপজেলা কৃষি অফিসার (ইউএও) কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার (এএও) কৃষিবিদ রোকসানা নাসরীন, গৌড়দ্বার ব্লকে কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার (এসএএও) আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যান্য ব্লকে কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার (এসএএও) ও স্থানীয় কৃষক-কৃষানীগন উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার (ইউএও) কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছে। তবে এ বছর আউশ আবাদের লক্ষমাত্রা ছিলো ৪২৩ হেক্টর জমিতে। ফলে লক্ষমাত্রার চেয়ে ৬২ হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। বেশি আবাদ হওয়ার কারন হিসেবে তিনি জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আউশ ধান চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। আউশ আবাদ করা সম্ভব এমন সকল জমিকে আবাদের আওতায় আনতে সর্বস্তরের কৃষি অফিসারগন নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া আউশ আবাদ সাধারণত বৃষ্টি নির্ভর; ফলে সেচ, সার ও শ্রমিকসহ অন্যান্য বাবদ উৎপাদন খরচ নেই বললেই চলে। উঁচু জমিতে অন্য কোন আবাদ না হলেও, আউশ ধানের ভালো ফলন হয়। অন্যদিকে এই মৌসুমে সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়না বললেই চলে। এমনকি সরকারি তরফ থেকে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ায় আউশ আবাদীর কৃষকের সংখ্যা ও জমির পরিমাণ বাড়ছে। কৃষকরা দিন দিন আউশ আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। এ বছর উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২.৭২ মেট্রিকটন চাল। এ হিসেব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে উপজেলায় এক হাজার ৩২০ মেট্রিকটন আউশ ধানের চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য মতে, এ বছর উপজেলার ৫৪০ জন কৃষককে প্রতিজনে ৫ কেজি করে আউশ ধানের বীজ, ২০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার সরকারি তরফ থেকে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এতে করে ৫৪০ জন কৃষক এক বিঘা করে মোট ৫৪০ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ করেছেন এবং রাজস্ব খাতের আওতায় ৫টি প্রদর্শনী প্লটে আউশ ধান চাষ করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এবং প্রণোদনা দিয়ে। গত বছর (২০১৯ সাল) নকলা উপজেলায় আউশ আবাদের অর্জন হয়েছিলো ৩৯৫ হেক্টর জমি।