বাউফলে নিম্নমানের ইট দিয়ে চলছে সড়কের কাজ

প্রকাশিত: ৪:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০
0Shares

এম.নাজিম উদ্দিন,পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে ইটেরভাটার পরিত্যক্ত ইট দিয়ে চলছে সড়কের কাজ। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া ব্রীজে থেকে বড়ডালিমা পর্যন্ত ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যায়ে ২.১৩ কিলোমিটার কার্পেটিং সড়কের ম্যাকাডমের কাজ চলছে নিম্নমানের ইট দিয়ে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) কাজটি বাস্তবায়ন করছে। এ নিয়ে ওই এলাকার লোকজনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোপের সৃষ্টি হলেও কর্তৃপক্ষ কোন ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছেননা। ফলে এই সড়কের স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, গ্রামীন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছর পল্লী ষ্টোর নামের পটুয়াখালীর এক ঠিকাদার সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। শর্তসাপেক্ষে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ পরিচালনা করেন আজিজ মোল্লা  নামের এক ঠিকাদার ও ইটভাটার মালিক।
বেড কাটা থেকে, বালু ভড়াট ও ম্যাকাডম পর্যন্ত সড়কের নির্মাণ কাজ সিডিউল অনুযায়ী করা হয়নি। বর্তমানে অত্যান্ত নিম্নমানের ইট দিয়ে সড়কটির ম্যাডমের কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন বাধা দিলেও কোন লাভ হয়নি।

মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিম্নমানের  মাটির মত নরম ইট দিয়ে চলছে নির্মাণ কাজ। সড়কের প্রস্থ ১০ফুটের জায়গায় কোথাও ৯ ফুট আবার কোথাও ৮ ফুট। সড়কের নিচু জায়গা উন্নয়নে দেওয়া হয়নি বালু। সড়ক রক্ষা পাকা ওয়ালা নির্মাণের কয়েকদিনেই ধসে পড়েছে। কচুয়া ব্রীজের সংযোগ সড়কের পাশে পাকা ওয়ালের বিপরীতে দেওয়া হয়েছে কলাগাছ আর বাশেঁর বেড়া। এযেনো সড়কের সারা শরিরে  অনিয়ম আর দূর্নীতিতে ভরা।

অপরদিকে, সড়ক নির্মাণের শুরুতে অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে দীর্ঘদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ম্যানেজ করে সম্প্রীতি নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন মৃধা, জাফর সরদার ও মানিক হাওলাদার বলেন,’ ঠিকাদার আজিজ মোল্লা তাঁর নিজস্ব ইটভাটার পরিত্যক্ত নম্বরহিন ইট সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করছে। এর চেয়ে চুলার মাটিও শক্ত। আমরা (এলাকাবাসী) একাধিক বার বাধা দিয়েছি। ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় কোন কিছুই আমলে নিচ্ছে না।

এবিষয়ে জানতে পল্লী স্টোর কর্তৃপক্ষ ও আজিজ মোল্লার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সুলতান আহম্মেদ  বলেন, নির্মাণ কাজ পরির্দশন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.জাকির হোসেনের দৃষ্টি আর্কষণ করলে তিনি বলেন,’  সড়ক নির্মাণে নি¤œমানের ইট ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।