সুরমার পানি বিপদ সীমার ৭০সে.মি. উপরে,বাড়ছে পানি

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০
0Shares
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :  
সুনামগঞ্জে নদী তীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।  
রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯টায় সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্ট দিয়ে ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। গতকাল যা ছিল ৫৭ সেন্টিমিটার। এক দিনের ব্যবধানে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩ সেন্টিমিটার।
গত ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার। এদিকে তাহিপুর উপজেলায় সর্বচ্ছো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬০ মিলিমিটার। যা এই কয়েক দিনের মধ্যে সর্বচ্ছো বৃষ্টিপাত।
আবহাওয়া বার্তার বরাত দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যার আরও বাড়তে থাকবে আগামী এক দুই দিন। তবে সেটা নির্ভর করছে ভারতে চেরাপুঞ্জিতে কি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। ঐ স্থানে যদি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধিপায় তাহলে সুনামগঞ্জে পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাবে।

এ দিকে পানি বাড়ার কারণে আতংকিত হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জ শহরের বাসিন্দারা। নিচু এলাকা গত কাল প্লাবিত হলেও নতুন করে পানি বাড়ার ফলে উচু এলাকার মানুষের মধ্যে অজানা আতংক বিরাজ করছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেলে এবং এক থেকে দেড় ফুট পানি বৃদ্ধি পেলে উচু ঘরবাড়িতে পানি ওঠে যাবে।

এখনও সুনামগঞ্জ শহরে বিভিন্ন এলাকা পানিতে ডুবে আছে। শহরে তেঘরিয়া, আরপিন নগর, বড়পাড়া, কাজির পয়েন্ট যোষলঘর, ওয়েজখালি, মল্লিকপুর সহ বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে।
বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে সদর উপজেলার পক্ষ থেকে সদর ও পৌর এলাকার সকল স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে। যাদের বাড়িতে পানি ওঠে গেছে তারা সবাইকে স্কুলে গিয়ে আশ্রয় নেয়া জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। অথবা যে কোনও জরুরী প্রয়োজনে (০১৭৫২৪৭৬৪৫১ ও ০১৭১৬৮৮৫১৪৪) এই নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে সদর উপজেলার ফেইসবুক পেইজ থেকে।

এদিকে সুনামগঞ্জ শহরের মানুষ ততা সারা জেলার মানুষ হঠাৎ এই বন্যা ও কোভিড-১৯ করোনা ভাইসের মধ্যে পড়েছেন চরম বিপাকে। কারো কারো বাড়িতে পানি ওঠে সব কিছু ভিজে গেছে।
জেলার তাহিপুর , বিশ্বম্বপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার এলাকার বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে।
সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ার ফলে তাহিপুর –বিশ্বম্ভপুর উপজেলার সাথে প্রায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জুরুরী প্রয়োজনে কেউ কেউ যাচ্ছেন এই সড়ক দিয়ে।
দোয়ারাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন, সদর ইউনিয়ন ও লক্ষীপুর ইউনিয়ন পানিতে প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টি বাড়লে দোহালিয়া ও পান্ডার গাঁও ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করে বন্যার সৃষ্টি হবে।
তাহিপুর উপজেলা লাউড় গড়ে আব রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এই উপজেলার প্রায় সকল গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত।
বিশ্বম্ভপুর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়ে মানুষ সহ বিভিন্ন গৃহপালিত পশু পাখি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গৃহস্থরা।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জে বন্যার পানি কমার কোনও আশংকা নেই দুই দিনের মধ্যে। বরং বাড়তে পারে যে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আজকে তাহিপুররের লাড়উগড়ে ৩৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে