করোনার প্রাদুর্ভাব কালীন সময়ে জেলা-উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ

প্রকাশিত: ১২:৩২ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০
0Shares

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

শেরপুর জেলায় করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) সংক্রমণ রোধে এর প্রাদুর্ভাব কালীন সময়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গৃহীত কর্মসূচি গুলো জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব সম্প্রতি এক স্বাক্ষাতকার প্রদান কালে সাংবাদিকদের জানান- করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) সংক্রমণ রোধে সম্মনিত ভাবে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় এমপি, পুলিশ বিভাগ, জেলা-উপজেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জেলা-উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের অংশ গ্রহনে সম্মতিত ভাবে জেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রচেষ্ঠা চালানো হচ্ছে।

জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া ডিসি অফিসের ফেইসবুক পেইজে ও নিজস্ব ওয়েব সাইডে করোনা বিষয়ে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের তথ্য লেনদেন করার জন্য জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রোমে চালু করা হয়েছে হটলাইন। এ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে লকডাউন আইন না মানায় এরই মধ্যে ৩১২ টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৭৩১টি মামলার মাধ্যমে প্রায় ১৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব জানান।

লকডাউনে জনস্বার্থে অনলাইন বাজার চালু করে জনগনকে ঘরে রাখার চেষ্ঠা চালানো হচ্ছে। জনসমাগম এড়াতে কৃষকদের সুবিধার্থে প্রতিটি উপজেলায় অর্ধেক ভর্তূকি মূলে কৃষকদের মাঝে কম্বাইন হারভেস্টার বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া কৃষকের এ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি কৃষকদের কাছে সরকারি ভাবে ধান ক্রয় করা হয়েছে। এ এ্যাপের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে শাক-সবজি কিনে ঘরে থাকা কর্মহীন মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় চালু করা হয়েছে অনলাইন ভিত্তিক কাস কার্যক্রম। ওইসকল কাসের ধারণকৃত ভিডিও পরের দিন শেরপুরের ডিস লাইনের ৪৬ নং চ্যানেলে দুই দফায় প্রচার করা হচ্ছে। তাছাড়া এ কাসগুলো জেলা প্রশাসনের নিজস্ব ওয়েব পোর্টালেও পাওয়া যাচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাজার দর স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বড় বড় বাজারের শাক-সবজির বাজার গুলো নিরাপদ দূরত্বে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিশেষ করে মাস্ক পড়া ও সামাজিক দূরত্ব বজায়ে কঠোর অবস্থানে আছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

উল্লেখ্য, জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, জেলার সব কয়টি উপজেলা (৫টি) থেকে করোনা সন্দেহে এপর্যন্ত ৩ হাজার ৪৫৬ জনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আর জেলায় ২৩৫ জনের শরীরে করোনা সনাক্ত হয়েছে এবং ১৫১ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বাকিরা আইসোলেশনে আছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চত করেছে।