আশুলিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে ছাত্রদল নেতার হুমকি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০
0Shares

নিজস্ব প্রতিবেদক:আশুলিয়ার দূর্গাপুর এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসায় আধিপত্ত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে হুমকি, ধামকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে আশুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান তানভীর আহমেদ রাইভি’র বিরুদ্ধে। এঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ রিয়াদ বিষয়টি জানিয়ে গত ২৩ জুন আশুলিয়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরী (নং-১৫৮৭) দায়ের করেছেন।  তবে নিরাপত্তার জন্য সাধারন ডায়েরী দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত রাইভী দেওয়ান ও শাহিন সরকার এবং তার বড় ভাই কহিনুর সরকার ব্যবসায়ী রিয়াদ ও অংশীদারদেরকে জিডি তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে মুঠোফোনে গালিগালাজসহ চাপ প্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সাধারন ডায়েরী থেকে জানা যায়, আশুলিয়ার দূর্গাপুর সরকার বাড়ির মৃত কালু সরকারের ছেলে কহিনুর সরকার (৪০), ০১৯২৫-৭৫৬৫৫৭, ০১৭১৬-৮৩০৯৭৯ তার ভাই আশুলিয়া থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক শাহিন সরকার (৩৮), ০১৭১৪-০৬৬৬২৪, ও আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার দেওয়ান বাড়ির রজ্জব আলী দেওয়ানের ছেলে রাইভী দেওয়ান (২৭) ইন্টারনেট ব্যবসা সংক্রান্ত বিরুধের জের ধরে ব্যবসায়ী রিয়াদ ও তার অংশীদারদের জান মালের ক্ষতি করবে বলে প্রকাশ্যে ভয়ভিতী প্রদর্শনস হুমকি দিয়ে আসছে।

এরই মধ্যে গত ২২ জুন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে আশুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইভী দেওয়ান অজ্ঞাত পরিচয় সহযোগীদের নিয়ে ব্যবসায়ী রিয়াদকে কাঠগড়া বাজারে একা পেয়ে পথরোধ করে। এসময় ইন্টারনেট ব্যবসাটি তাদেরকে ছেড়ে না দিলে ব্যবসায়ী রিয়াদ ও তার অংশীদারদের জান মালের ক্ষতি করিবে বলে হুমকি দেয়। এছাড়া কহিনুর সরকার গত ২০ জুন রাতে ১০ টায় তার ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে ব্যবসায়ী রিয়াদের মোবাইলে কল করি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ ভয়ভিতি দেখায়। একইভাবে তার ভাই আশুলিয়া থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক শাহীন সরকারও একাধিকবার ব্যবসায়ী রিয়াদসহ তার অংশীদারদেরকে মুঠোফোনে হুমকি দেয়। এসব ঘটনা উল্লেখ করে গত ২৩ জুন সাধারন ডায়েরীটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রিয়াদ।আশুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইভী দেওয়ান যুবলীগ নেতা রাসেল মাদবরেরর সাথে

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান তানভীর আহমেদ রাইভি বলেন, আমিও ইন্টারনেটেন ব্যবসা করি কিন্তু কোন দল করিনা। তবে মাঝে মধ্যে আমার মামা আশুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল মাদবরের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করি। এছাড়া সাধারন ডায়েরীর বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোন সমস্যা নাই। জিডি করা হয়েছিলো কিন্তু পরবর্তীতে মীমাংসার মাধ্যমে তা তুলে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে ইন্টারনে ব্যবসার আধিপত্ত্য বিস্তার নিয়ে মাঝে মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে করে যে কোন সময় ব্যবসায়ীক দ্বন্দের জেরে ওই এলাকায় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসীরা। নিজের জান মালের নিরাপত্তার জন্য বিষয়টি সমাধানে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই এলাকার সাধারন মানুষ।