টাঙ্গাইলে করোনাকালীন সরকারী বিধি নিষেধ মানছে না ক্রেতা ও ব্যবসায়ী

প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০
0Shares

জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল:  মহামারি করোনাভাইরাসের এই সংকটকালে ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে সীমিত পরিসরে শপিংমল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেয় সরকার।

গেল ১০ মে থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি পান ব্যবসায়ীরা। এ সময় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতসহ বেশ কয়েকটি শর্ত দেয়া হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে। কিন্তু ঈদের পরেই পাল্টে গেছে মার্কেটের রূপ। করোনার ঝুঁকিতেও সামাজিক দূরত্ব না মেনে মার্কেট ও শপিংমলে ভিড় করছেন ক্রেতারা। আবার ব্যবসায়ীরাও সঠিক সুরক্ষার ব্যবস্থা তেমন করছেন না। এতে বেড়ে যাচ্ছে করোনার ঝুঁকি। টাঙ্গাইল সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলছে করোনা আক্রান্তের হার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে দোকানপাট, মার্কেট এবং শপিংমল চালু করার অনুমতি প্রদান করে জেলা প্রশাসন। জেলা সদরে হীরা সুপার মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, ক্যাপসুল মার্কেট, কলেজ মার্কেট সহ বিভিন্ন মার্কেটে বেসিন ও জীবাণুনাশক স্প্রে মেশিন থাকলেও তা বিকল। বেসিন আছে পানি সরবরাহ নাই। জীবাণুনাশক মেশিন আছে কিন্তু অচল। তবে কিছু কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা বেশ সচেতন।তারা নিজেরা যেমন মাস্ক ও জীবাণুনাশক ব্যবহার করছে তেমনি ক্রেতাদেরও এসব ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করছে। তবে বেশির ভাগ মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে মাস্ক ব্যবহার করছেন না। যে জিনিসপত্র এক বৎসর না কিনলেও কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয় সেগুলোও কেনার জন্য বাইরে এসে সংক্রমিত হচ্ছেন কেউ কেউ। অযাচিত ভাবে এমন চলাচলে জেলায় করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ছে দিনদিন।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার থানা পাড়া থেকে আসা ক্রেতা রহিমা মাসুদ জানান, আমি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হই না। তবে বাইরে এলেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে পারছিনা। পার্কের বাজার ও অন্যান্য মার্কেট গুলোতে এখন অনেক ভীড়। আমাদেরকে বাঁচাতে আবার মার্কেট বন্ধ রাখা উচিত। তা না হলে করোনা যে হারে বেড়ে চলছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে আক্রান্তের হার অন্য যেকোন জেলার রেকর্ড ভাঙ্গতে পারে আমাদের জেলা। ক্রেতা সবা রহমান চৈতী বলেন, শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট খুলে দেয়ায় করোনা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আমার ধারনা। কারন অকারনেই আমরা মার্কেটে ঘুরাফেরা করছি। সীমিত আকারে মার্কেট, দোকান খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়ায় আমরা হুমকির মধ্যে পরেছি। করোনায় আক্রান্তের হার বেড়েই চলেছে। তাই দোকানপাট, শপিংমল ও মার্কেট বন্ধ করা জরুরি। তা নাহলে বড় বিপদের সম্মুখীন হবে টাঙ্গাইল বাসী। হীরা সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সায়েম বলেন , ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের দোকান খোলা রাখার দাবিতে আমরা মানববন্ধন করেছি। সরকারী বিধিনিষেধ মেনেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলছে।

এ কারনে সরকার বিকেল চারটার পরিবর্তে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ব্যবসায়ীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা করছি। তবে ক্রেতারা শারীরিক দূরত্ব মানছেন না। তিনি আরো বলেন, আমাদের হাত ধোঁয়ার বেসিন ও জীবাণুনাশক স্প্রে সচল রয়েছে। মার্কেট খোলা সময় পর্যন্ত এগুলো সচল রাখা হয়।