ফেইসবুকের কল্যাণে শিশু আলিফের সন্ধান পেলো তার পরিবার

প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০
0Shares

মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:

সর্ববৃহৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের কল্যানে সোহাগ @ ওরফে আলিফ (৯) এর সন্ধান পেয়েছেন বাবা-মাসহ তার পরিবারের লোকজন।
জানা গেছে, শিশু সোহাগ ওরফে আলিফ আমবাগান দেখতে সুদূর রাজধানী ঢাকা থেকে একাই রাজশাহী চলে যায়। পরে পথ হারিয়ে শুক্রবার রাত আটটার দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় সে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাঘুরি করছিলো। এসময় পুলিশের নজরে আসে। পরে আলিফকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, কোনো অভিভাবক ছাড়াই সে ঢাকা চৌরাস্তা হতে আমবাগান দেখার জন্য রাজশাহীতে আসে। সে পুলিশকে আরও জানায়, তার নাম সোহাগ ওরফে আলিফ, বাবার নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন, মায়ের নাম আমেনা বেগম এবং নানার বাড়ি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায়।
পরে রাজশাহীর স্থানীয় একটি পোর্টাল পেপারে শিশুটির পরিবারের সন্ধান চেয়ে খবর প্রকাশসহ ফেইসবুক ব্যবহারকারী অনেকে শিশুটির পরিবারের সন্ধান চেয়ে নিজ নিজ টাইম লাইনে আলিফের দেওয়া তথ্য সম্বলিত লেখা পোষ্ট করেন। লেখায় এই ছেলে সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারণ চন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হয়।
এপোষ্ট দেখে শেরপুরের নকলা উপজেলার রহুল আমিন পলাশ নামের একলোক নকলা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান লিটনকে বিষয়টি জানান। পরে পৌর মেয়র খৈরাপাড়া এলাকার কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করে শিশুটির নানা নকলা পৌর এলাকার ইউনুস আলীর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে বোয়ালিয়া থানার ওসির সাথে তাকে ভিডিয়ো কলে কথা বলিয়ে দেন। আলিফের নানা নকলার ইউনুস আলী ভিডিয়ো কলে আলিফকে দেখেন এবং আলিফ তাদের মেয়ের ঘরের নাতি বলে ওসিসহ অন্যান্যদের নিশ্চিত করেন।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন যে, শিশু ছেলেটির পরিচয় এরই মধ্যে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তার পরিবার থেকে এরই মধ্যে কয়েক দফায় যোগাযোগ করা হয়েছে। শনিবার সকালের মধ্যে আলিফের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে তাকে নিয়ে যাবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ যে, শিশু ছেলেটির বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিজ বাড়ি রাজশাহীতে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নারায়ানগঞ্জে বসবাস করে আসছেন। তার ছেলে দাদার বাড়ীর চেয়ে নানার বাড়িতে বেশি থেকেছেন বলেই নানার বাড়ির ঠিকানা বলতে পেরেছেন।
নাতির সন্ধান পেয়ে ফেইসবুক ব্যবহারকারী পোষ্ট দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আলিফের নানা ইউনূস আলী ও তার বাবা, মাসহ পরিবারের সদস্যরা।