পদ্মা সেতু-মেট্রোরেল এক বছর পিছিয়ে যাচ্ছে

প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০
0Shares

সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোও নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ এতটাই পিছিয়ে পড়েছে যে কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে, তাও অনিশ্চিত।

সড়ক, মহাসড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রমে একটা হতাশাজনক অবস্থা বিরাজ করছে। একমাত্র পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের কাজে তুলনামূলকভাবে কিছু অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অন্যান্য প্রকল্পগুলো আগের তিমিরেই রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই প্রকল্পগুলোতেই যেখানে অত্যন্ত হতাশজনক অবস্থা বিরাজ করছে, সেখানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভিত্তিক প্রকল্পগুলোর অবস্থা সহজেই অনুমেয়। সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প চলমান ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি, উন্নয়নকাজে গতিশীলতা এনেছিল। কিন্তু আকস্মিক করোনা মহামারি সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা এনেছে। অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে কর্মরত বিদেশি প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ, কর্মীরা নিজ দেশে ফিরে গেছেন বা এখানেই হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন। জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে বাস্তবায়ন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রকল্পগুলোর সমাপ্তি হবে পূর্বনির্ধারিত সময় অপেক্ষা এক থেকে দেড় বছর পর।

জানা যায়, অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প, দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুনধুম রেল সংযোগ প্রকল্প। এর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ এ পর্যন্ত প্রায় ৭৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। নদীশাসনের কাজ হয়েছে প্রায় ৬৩ শতাংশ। করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত মহাবিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেও পিলার বসানোর কাজ চলছে। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পিলার বসানো, নদীশাসনের কাজসহ সামগ্রিক কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতিতে আগামী বছরের ডিসেম্বরের আগে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না বলে জানা যায়।

এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্মাণব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল। এখন তা প্রায় চার হাজার কোটি টাকারও বেশি বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেল সংযোগ স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয় প্রধানত চীনের অর্থায়নে। প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবায়ন কাজ হয়েছে মাত্র ২ শতাংশেরও কম।

প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সন্তোষজনকভাবেই এগোচ্ছিল। ব্যয় হয় ১০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু মার্চ থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ভ‚মি উন্নয়নকাজ হয়েছে মাত্র ২১ শতাংশ, পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ফ্যাসিলিটিজের কাজ হয়েছে ৩৩ শতাংশ। প্রকল্পের কাজ শেষ হতে নির্ধারিত সময় অপেক্ষা দেড় বছর বেশি লেগে যাবে। প্রকল্প ব্যয় ৪ হাজার কোটি টাকা বেশি লেগে যাচ্ছে।

মেট্রোরেলের কাজ জোরেশোরেই চলছিল। অগ্রগতিও হচ্ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রকল্প ব্যয় নির্ধারিত রয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। মার্চ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। ভূমি উন্নয়নকাজ শতভাগ শেষ হলেও উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত নয়টি স্টেশনের কাজ ৫৯ ভাগ হওয়ার পর থমকে আছে। কাওরানবাজার পর্যন্ত সাতটি স্টেশনের কাজ মাত্র ১৭ শতাংশ, কাওরানবাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সাতটি স্টেশনের কাজ ২১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার কথা থাকলেও তা নয় মাস থেকে এক বছর পিছিয়ে যেতে পারে। নির্মাণব্যয়ও ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়তে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুনধুম রেল সংযোগ প্রকল্প, কর্ণফুলী টার্নেল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজও বিলম্বিত হবে। প্রতিটি প্রকল্পই এক বছর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। এসবের নির্মাণব্যয়ও দুই থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।

আরিফুল ইসলাম (বার্তা সম্পাদক)
            “দ্যা নিউ স্টার”