শেরপুরে এক যুগ ধরে শিকল বন্দী উপজাতি নারী নিরপতি কোচ!

প্রকাশিত: ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০
0Shares

 জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর :

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে এক যুগ ধরে শিকল বন্দী উপজাতি নারী নিরপতি কোচ (৩৭)। নিরপতি কোচ উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের নওকুচি গ্রামের সতেন্দ্র কোচের স্ত্রী। এক বছর আগে স্বামী সতেন্দ্র কোচের মারা যান। বিশ বছর আগে সতেন্দ্র কোচের সাথে নিরপতি কোচের বিয়ে হয়। এক সন্তানের জননী হওয়ার পরে নিরপতি কোচ মানুষিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরেন। তখন কোন উপায় অন্ত না পেয়ে তার স্বামীর ও বাবার বাড়ির লোকজন মিলে পরিবারিক ভাবে তাকে শিকলে বন্দি করে রাখেন।

নিরপতি কোচ মানুষিক ভারসাম্যহীনতার কারনে কর্মহীণ হয়ে পড়েন। ফলে সতেন্দ্র কোচের পরিবারে নেমে আসে অভাব-অনটন, দুঃখ-দুর্দশা। সে সময় থেকেই অনাহারে-অর্ধাহারে তাদের দিন কাটতে থাকে। প্রায় দিনই একবেলা খাবার জুটলেও জুটেনা আরেক বেলার খাবার। নিরপতি কোচের বৃদ্ধা মা পাতিশ্বরী কোচ বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। তাদের বেশি আবাদী জমি নেই। যেটুকু আছে তাতে ফসল ফলানোর লোক নেই। তাদের অন্যকোন সহায়-সম্বল নেই বললেই চলে। মানুষিক ভারসাম্যহীন মেয়ের মুখে এক মুঠো কাবার তুলে দিতে বৃদ্ধা মা পাতিশ্বরী কোচকে অন্যের কাছে ভিক্ষা করতে হচ্ছে। বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে নিরপতি কোচ ও তার পরিবারের সদস্যরা।

নিরপতি কোচের বৃদ্ধা মা পাতিশ্বরী কোচ বলেন, মানুষিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে চিকিৎসা করানোর মতো যথেষ্ট টাকা পয়সা তাদের হাতে নেই বা ছিলোনা। তাই বাধ্য হয়েই ফুটফুটে মেয়েটিকে প্রায় এক যুগ ধরে শিকল বন্দী করে রাখতে হচ্ছে। তিতিনি আরও বলেন, তার মেয়ে মানুষিক প্রতিবন্ধী হওয়ার পরে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন সুফল পায়নি।

বৃদ্ধা মা পাতিশ্বরী কোচের নামে যেকোন ভাতার ব্যবস্থা করাসহ প্রতিবন্ধী নিরপতি কোচের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য জোর দাবী এলাকাবসীর। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা। এখন তিনি শুনেছেন। প্রতিবন্ধী নিরপতি কোচের নামে ভাতার কার্ড না থাকলে, তার নামে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।